যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির সুযোগে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্ক নীতির প্রভাবে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অনেকেই ভারত, পাকিস্তান ও চীনের পরিবর্তে এখন বাংলাদেশমুখী হচ্ছেন।
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, আগস্টের শুরু থেকেই বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের পূর্বাভাস, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বর থেকে অর্ডারের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে।
গত দুই মাসে আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি আদেশ প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। অর্থবছরের প্রথম মাসেই মোট রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ শতাংশ। ইপিবির পরিসংখ্যান বলছে, জুলাই মাসে শুধু পোশাক খাত থেকেই আয় এসেছে ৩৯৬ কোটি ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানির ৮৩ শতাংশের কাছাকাছি।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, নির্দিষ্ট সময়ে শিপমেন্ট সম্পন্ন করা গেলে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ৩০–৩৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তার মতে, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী আট মাসেই নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, পোশাকের বাইরেও আগে চীন ও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেসব পণ্য যেত, সেগুলোর ক্রেতারাও এখন বাংলাদেশে আগ্রহী। তবে বিদ্যুৎ-জ্বালানির সংকট এবং বন্দর সুবিধার সীমাবদ্ধতা দ্রুত সমাধান করতে হবে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মতে, মার্কিন শুল্ক বাড়ার আগে ক্রেতারা অনেক অর্ডার ভারতে স্থানান্তর করেছিলেন। কিন্তু নতুন পরিস্থিতি, সঙ্গে চীনের শ্রমিক সংকট—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। তিনি আশা করছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ৪০–৪৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও ঋণ প্রবাহের সংকোচন এখনো বিনিয়োগকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল মনে করেন, সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রপ্তানির গতি কিছুটা কম থাকে, কিন্তু এবার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বড় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ছোট আমদানিকারকেরাও বাংলাদেশে অর্ডার দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কার্যকরের পর দেশটির ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্রয়াদেশ বেশি হলেও দাম কমিয়ে অর্ডার নেওয়া যাবে না। এতে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হবে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত একটি টাস্কফোর্স গঠন করে বাড়তি অর্ডার ব্যবস্থাপনায় নীতি সহায়তা দেওয়া।
তথ্যসূত্র: আমার দেশ

মতামত দিন