নিষেধাজ্ঞা ও বৈশ্বিক মন্দায় বেনাপোলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বড় ধস।
বন্দর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ভারতে থেকে বেনাপোলে আমদানির পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৩০ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন, যা চলতি অর্থবছরে কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ, আমদানি হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন।
একইভাবে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি ক্ষেত্রেও বড় পরিমাণ পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন পণ্য রফতানি করা হলেও, ২০২৪-২৫ সালে তা নেমে এসেছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টনে। এই হিসেবে রফতানিতে প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টনের স্বল্পতা দেখা দিয়েছে।
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে লাগাতার নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট থেকে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
বর্তমানে ভারতের পক্ষ থেকে আকাশপথে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি বন্ধ রয়েছে এপ্রিল থেকে। এছাড়া গার্মেন্টস, তুলা সুতির বর্জ্য, প্লাস্টিক ও ফল জাতীয় পণ্য রফতানিতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। জুনের শেষে পাট ও পাটজাত পণ্যের স্থলপথ রফতানি বন্ধ করা হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারও দেশীয় শিল্প রক্ষার উদ্দেশ্যে ভারত থেকে স্থলপথে সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, “নিষেধাজ্ঞার ফলে স্থলপথ বাণিজ্যে বিরাট প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি অবিলম্বে সমাধান না হলে ব্যবসায়ীরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”
বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, “একটি কার্যকর সমন্বয় ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেনও জানান, “সরকারি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকেও বেনাপোল দিয়ে পণ্যের আমদানি ও রফতানিতে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সম্প্রতি ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ মাত্র ৪৮৬ ট্রাক, আর রফতানি হয়েছে ৭৬ ট্রাক।”
তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বেনাপোলের বাণিজ্য কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ সংকটে পড়বে।”

মতামত দিন