চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড, রাজস্বেও ইতিবাচক ধারা।
২০২৪–২৫ অর্থবছর শেষে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউতে (২০ ফুট সমপর্যায়ের কনটেইনার)। যা গত বছরের তুলনায় ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি এবং প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৪ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বছরজুড়ে নানা প্রতিবন্ধকতা—রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরিবহন ধর্মঘট, এনবিআরের সাময়িক শাটডাউন—সত্ত্বেও কনটেইনার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা ছিল টানা। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আগের বছরের তুলনায় বড় অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, সরকারের পরামর্শক, মন্ত্রণালয়, বন্দর বোর্ড এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত চেষ্টাই এ অর্জনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া বন্দর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্প্রসারণ, ই-গেট পাস এবং অপারেটিং সিস্টেমে আধুনিকায়নও কার্যক্রম গতিশীল করতে সহায়তা করেছে।
এদিকে, বন্দরভিত্তিক রাজস্ব সংগ্রহেও দেখা গেছে ইতিবাচক ধারা। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আদায় করেছে ৭৫ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯.৭১ শতাংশ বেশি। যদিও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৪ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে তারা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল ইসলাম জানান, সারা বছর নানা কর্মসূচি ও আন্দোলনের পরেও রাজস্ব আদায়ে তারা স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছেন। ফাঁকি ঠেকাতে কড়া নজরদারি, অডিট ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্যিক মহলও চট্টগ্রাম বন্দরের এই সাফল্যকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। বিজিএমইএ পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, কনটেইনার হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি মানেই রপ্তানি বাণিজ্যে অগ্রগতি। তবে এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে বন্দরের কার্যক্রমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা আন্দোলননির্ভর বাধা দূর করতেই হবে।
লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিপিং সূচক ‘লয়েডস লিস্ট’-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের দিক থেকে ৬৭তম অবস্থানে রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে নতুন বছরেও বন্দর ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা বজায় থাকলে, দেশের আমদানি-রপ্তানি খাতে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মতামত দিন