ব্যবসায়-বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

চামড়া রফতানিতে অনুমোদন: স্থানীয় শিল্পে ক্ষতির শঙ্কা।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে ন্যায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার প্রথমবারের মতো লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর আগে ওয়েট ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি থাকলেও, এবার লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার ক্ষেত্রেও একই ছাড় দেওয়া হলো।

তবে এতে স্থানীয় চামড়া শিল্পে সংকট বাড়তে  পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চামড়া খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের মতে, রফতানি বাড়ানোর জন্য গুণগত মান নিশ্চিত না করা গেলে কোনো উদ্যোগই সুফল দেবে না। ববিন লেদারের স্বত্বাধিকারী ইকবাল বলেন, “চামড়া সংগ্রহের সময় মান ঠিক  রাখা না গেলে রফতানি সুবিধা কোনো কাজে আসবে না।”

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি হয়েছে ১১ কোটি মার্কিন ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। ২০১৪ সালে যেখানে রফতানি আয় ছিল ৩৯ কোটি ডলার, সেখানে ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩ কোটি ডলারে।

এ অবস্থায় নতুন রফতানির সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) নেতারা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, “প্রক্রিয়াজাত চামড়া রফতানির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বড় বাজার রয়েছে। কাঁচা চামড়া রফতানি করলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট দেখা দেবে, কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়বে।”

তবে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলছেন, রফতানির জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে না তুলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। “ওয়ারহাউস, ফ্রিজিং ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসায়ীরা রফতানি করতে পারবেন না,” বলেন তিনি।

এদিকে, সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান মনে করেন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) দ্রুত সম্পূর্ণ কার্যকর করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “একটি অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখিয়ে এই দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটাতে পারে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, চামড়া খাতের বহুমুখী সংকট সমাধানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন জরুরি।

মতামত দিন