চামড়া কিনে লোকসানে আড়তদার, ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষুব্ধ বিক্রেতারা।
শনিবার (৭ জুন) রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ ও সাভারের বিভিন্ন আড়তে সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র উঠে আসে।
সরকার নির্ধারিত দামে রাজধানীতে গরুর কাঁচা চামড়ার সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৩৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে এ দাম ১,১৫০ টাকা। খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২২ থেকে ২৭ টাকা এবং বকরির চামড়া ২০ থেকে ২২ টাকা বেঁধে দিয়েছে সরকার। তবে আড়তদারদের ভাষ্য, বাস্তব পরিস্থিতিতে এসব দাম কার্যকর হচ্ছে না।
সাভার কাঁচা চামড়া আড়ত মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এমদাদুল হক (সোহরাব) বলেন, "সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে, তা দিয়ে খরচ মেটানো সম্ভব নয়। চামড়া কিনেই সঙ্গে সঙ্গে লবণ মেশাতে হয়, শ্রমিকদের মজুরি দিতে হয়। সব মিলিয়ে লোকসান গুনতে হয়। তাই নির্ধারিত দামে কিনে লাভ করা অসম্ভব।"
রাজধানীর লালবাগে কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, তারা গরুর কাঁচা চামড়া মানভেদে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় কিনছেন। তাদের মতে, একেকটা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে ৪০০ টাকার মতো খরচ পড়ে যাচ্ছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই দামে চামড়া কিনেও লাভ করা কঠিন।
বিক্রেতারা বলছেন, প্রতিবারের মতো এবারও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, কিন্তু আড়তে এসে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। মিরপুরের চামড়া বিক্রেতা শাহাবুদ্দিন বলেন, “ভালো মানের গরুর চামড়া এনেছি, কিন্তু ৭০০ টাকার বেশি কেউ দিচ্ছে না। সরকারের নির্ধারিত দামের কথা বললে আড়তদারেরা সরাসরি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।”
তবে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, এ বছর চামড়ার জোগান ভালো। তিনি দাবি করেন, "গতবারের তুলনায় এবার প্রতিটি চামড়ার দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি। তবে ছোট গরুর চামড়া বেশি হওয়ায় সামগ্রিক মূল্যমান কিছুটা কম।"
এদিকে, চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বিজিবি। ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোশারফ হোসেন জানান, “কোরবানির চামড়া পাচার ঠেকাতে আমরা নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছি।”
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ঈদুল আজহার পর দেশে ৮০-৮৫ লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এবারও সেই লক্ষ্যে কাজ করছে ট্যানারি মালিকেরা। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, চামড়ার বাজার এখনও অস্থির, আর তার চাপ পড়ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ওপর।

মতামত দিন