ব্যবসায়-বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার পথে নরসিংদীর কলার থোর, বর্জ্য থেকে রপ্তানির নতুন খনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
এক সময়ে যেসব কলাগাছের থোর বা মাইজা কেটে ফেলে দেওয়া হতো ডোবা-নর্দমায়, আজ সেটিই হয়ে  উঠেছে অর্থের উৎস। নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহকৃত কলার থোর এখন রাজধানী ঢাকার শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজার হয়ে ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

বিশেষ করে নরসিংদীর সাগর কলা, যা ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, তার ফল সংগ্রহের পর যে থোর অংশ ফেলে দেওয়া হতো, এখন সেটিই বিক্রয়যোগ্য পণ্য হয়ে উঠেছে। কৃষকরা কলার ফল কেটে নেয়ার পর গাছ থেকে ১০ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের থোর কেটে বস্তাবন্দি করে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন।

প্রতি পিচ থোর বিক্রি হয় ৬ থেকে ৮ টাকায়, আর রাজধানীতে তা ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। থোর প্রক্রিয়াজাত করে দেশে তৈরি উদ্যোক্তারা রপ্তানি করছেন ইউরোপসহ বিশ্বের নানা দেশে।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫-৪০ বছর ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ব্যবসা চলছে। প্রতিদিন ৪০-৫০টি কলাগাছ সংগ্রহ করে বিকেলে থোরে রূপান্তর করে পিকআপে ঢাকায় পাঠানো হয়।

এ ব্যবসা শুধুমাত্র আয়ের উৎস নয়, দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি, বিদেশি মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন এই পণ্যের মাধ্যমে।

স্থানীয় উদ্যোক্তারা সরকারের সহযোগিতা ও সহায়তা পেলে এই ক্ষুদ্র উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেন।

মতামত দিন