বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়া না পড়লেও আমদানি প্রবাহে।
ঢাকা,আজ বৃহস্পতিবার ২৯ মে ২০২৫:
সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার রাজনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে এলেও, এর প্রভাব বাণিজ্যিক লেনদেনে তেমন একটা পড়েনি। কূটনৈতিক অমিল ও একাংশের ভারতীয় পণ্যের বর্জনের ডাক সত্ত্বেও, ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রবাহে কোনো দৃশ্যমান পতন দেখা যায়নি।
চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশ ভারত থেকে যে পরিমাণ পণ্য এনেছে, তার আনুমানিক মূল্য ১১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। মূলত খাদ্যশস্য, তুলা, খনিজ এবং জ্বালানি জাতীয় পণ্যের চাহিদা বজায় থাকায় এই প্রবাহ টেকসই রয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি সীমিত পরিসরে হলেও স্থিতিশীল রয়েছে। তৈরি পোশাকসহ কয়েকটি প্রস্তুত শিল্প-ভিত্তিক পণ্য ভারতীয় বাজারে যাচ্ছে নিয়মিতভাবেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ কিংবা জনমত ক্ষোভ থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। একারণেই আমদানি-রপ্তানির ধারা ছেদ না হয়ে বরং স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষত সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক লেনদেন ও যোগাযোগ আগের মতোই সচল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান,পরিবহন সুবিধা এবং নির্দিষ্ট কিছু কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীলতা দুই দেশকে পরস্পরের কাছাকাছি রাখছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সম্পর্কে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারছে না।
তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক টানাপড়েন যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় কিংবা আমদানি-রপ্তানিতে সরাসরি নীতিগত বাধা তৈরি হয়, তাহলে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া অর্থনীতিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা।

মতামত দিন