নুসরাত ফারিয়ার গ্রেফতার ‘বিব্রতকর’, মন্তব্য সংস্কৃতি উপদেষ্টা ফারুকীর।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার গ্রেফতার নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সোমবার (১৯ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেয়া এক পোস্টে তিনি ঘটনাটিকে “বিব্রতকর” বলে উল্লেখ করেন।
ফারুকী লেখেন, “আমি সাধারণত আমার মন্ত্রণালয়ের কাজের বাইরে কথা বলি না। কিন্তু আমার পরিচয় আছে—আমি এই ইন্ডাস্ট্রির মানুষ ছিলাম এবং দুই দিন পর আবার সেই জায়গায় ফিরে যাবো। নুসরাত ফারিয়ার গ্রেফতার আমাদের জন্য বিব্রতকর একটি ঘটনা হয়ে থাকলো।”
তিনি জানান, সরকারের অবস্থান ছিল, জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতা না থাকলে কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। সেই নীতিই অনুসরণ করা হচ্ছিল বলেও উল্লেখ করেন ফারুকী।
তার ভাষ্য, “ফারিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি অনেকদিন ধরেই ছিল, কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই গ্রেফতারের কোনো নির্দেশ ছিল না। কিন্তু বিমানবন্দরে যাওয়ার পর হঠাৎই তাকে আটকে দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিদেশ যাত্রা ঘিরে জনরোষের প্রেক্ষাপটে সরকারি মহলের কিছুটা অতিরিক্ত সজাগ প্রতিক্রিয়া থেকে হয়তো এমনটা ঘটে থাকতে পারে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কয়েকদিন আগেই ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থের স্ত্রীর সঙ্গেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের আচরণ সমর্থনযোগ্য নয়। আমি বিশ্বাস করি, ফারিয়া আইনি প্রতিকার পাবেন। ঢালাও মামলার বিষয়গুলো আরও সংবেদনশীলভাবে দেখার প্রয়োজন আছে।”
উল্লেখ্য, নুসরাত ফারিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে, যা ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন দায়ের করা হয়।ওই মামলায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন অভিনেতা জায়েদ খান, অপু বিশ্বাস, ভাবনাসহ মোট ১৭ জন।
রোববার (১৮ মে) সকালে থাইল্যান্ডে যাওয়ার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন ফারিয়া। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাংলা ও টালিউডের যৌথ প্রযোজনার সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে দুই বাংলাতেই পরিচিত মুখ নুসরাত ফারিয়া। ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমায় শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশেষভাবে আলোচিত হন।
মতামত দিন