ইকরার মৃত্যুর পর নতুন প্রশ্ন গায়েব ফেসবুক আইডি, মুছে যাচ্ছে পুরোনো বার্তা প্রমাণ লোপাটের চেষ্টায় কে?
ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আত্মহত্যার ঘটনার কয়েকদিন না পেরোতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুধু আইডিই নয়, বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ইকরার পাঠানো পুরোনো বার্তা ও মন্তব্যও ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন নেটিজেনরা। এতে ঘটনাটির সম্ভাব্য আলামত নষ্টের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। সামাজিক মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কার স্বার্থে এসব তথ্য সরানো হচ্ছে।
গত শনিবার রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসান এমন করুণ পরিণতিতে হওয়ায় ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।
ঘটনার আগের রাতে স্বামী যাহের আলভী ও ইকরার ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। অনলাইন কথোপকথনের কয়েক ঘণ্টা পরই ইকরার মৃত্যুর খবর সামনে আসে।
পরে ইকরার ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবীর প্রকাশ করা মেসেঞ্জার চ্যাট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন অভিযোগ সামনে আসে। সেখানে যাহের আলভীর বিরুদ্ধে সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং দাম্পত্য কলহের ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন মানসিক চাপে ছিলেন ইকরা।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিজ জেলা ময়মনসিংহের ভালুকায় নেওয়া হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এদিকে মেয়ের মৃত্যুর জন্য স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দায়ী করে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছেন ইকরার বাবা।
এরই মধ্যে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় যাহের আলভী, এক সহ-অভিনেত্রী ও অভিনেতার মাকেও আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নেপাল থেকে দেশে ফেরার পর যাহের আলভীর অবস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিমানবন্দর ত্যাগের পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ঘটনার তদন্ত চলমান থাকলেও ইকরার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য গায়েব হয়ে যাওয়ায় রহস্য আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মতামত দিন