সালমান শাহ হত্যা মামলায় নতুন ধাপ: ২৯ বছর পর রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা।
এরপরই সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডনসহ মোট ১১ জনের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরও কিছু অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামও রয়েছে।
রমনা থানা পুলিশ এখন মামলার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সালমান শাহর ২৯ বছর আগে বসবাস করা ‘ইস্কাটন প্লাজার’ ফ্ল্যাটের ভেতরের অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। নব্বইয়ের দশকে এই ফ্ল্যাটে নায়ক তার স্ত্রী সামিরার সঙ্গে থাকতেন। মৃত্যুর পর ফ্ল্যাটটি সিলগালা করা হয়েছিল, বর্তমানে সেখানে ফ্ল্যাটের বর্তমান মালিক বসবাস করছেন।
মামলাকারী আলমগীর কুমকুম সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে পরিবার দাবি করে আসছিল যে, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে। পিবিআই পূর্বে নায়কের মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করলেও, পরিবার তা মেনে নেয়নি। তিনি বলেন, “সালমান শাহর বাবা একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। উনি বহুবার চেষ্টা করেছিলেন অপমৃত্যু মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের জীবনের মধ্যেও সেটি সম্ভব হয়নি। এখন এতদিন পর এটি সম্ভব হয়েছে। ইনশাআল্লাহ প্রমাণ হবে, এটি হত্যা।”
চলতি মামলার তদন্তে পুলিশ আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রমাণ সংগ্রহ এবং ঘটনার সময়ের বিস্তারিত পুনঃরচনা করছে। মামলাটি সমাধান হলে সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর দীর্ঘকালীন জট সরে আসবে বলে পরিবারের আশা।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে মাত্র চার বছরের কর্মজীবনে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছিলেন সালমান শাহ। রোমান্টিক চরিত্রে তার অভিনয়, ভক্তদের সঙ্গে তার সহজাত আবেগ এবং পর্দায় রোমান্টিক অনুভূতির খাসিয়ত তাকে আজও অমর করেছে। নায়কের মৃত্যু এবং পুনঃতদন্তের এই নতুন ধাপ দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সাধারণ জনগণকে আবারও তার জীবনের ঘটনা এবং রহস্যে নতুনভাবে মনোযোগী করছে।

মতামত দিন