বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রথমবারের মতো নেপালি সিনেমা ‘মিসিং’।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রথমবারের মতো মুক্তি পাচ্ছে কোনো নেপালি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা। ‘মিসিং : কেটি হারায়েকো সূচনা’ নামের এ চলচ্চিত্রটি আগামী ১৮ জুলাই থেকে স্টার সিনেপ্লেক্সের ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শাখায় প্রদর্শিত হবে।
এই চলচ্চিত্র বিনিময়ের অংশ হিসেবে নেপালের হলে মুক্তি পাবে বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ন ডরাই’। তানিম রহমান অংশু পরিচালিত ও শরিফুল রাজ-সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনীত সিনেমাটি ২০১৯ সালে মুক্তির পর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ ছয়টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিল।
নেপালের তরুণ নির্মাতা দীপেন্দ্র গাউছান পরিচালিত ‘মিসিং’ সিনেমাটি দেশটিতে মুক্তির পর ব্যাপক সাড়া ফেলে। রোমাঞ্চ ও আবেগঘন গল্পে নির্মিত এই ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রিষ্টি শ্রেষ্ঠা ও নাজির হুসেন। ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবিটি এক তরুণ-তরুণীর প্রেম, অপহরণ এবং পরিবর্তিত মানবিক সম্পর্কের জটিলতাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এতে উঠে এসেছে নেপালের মধেশ অঞ্চলের প্রকৃতি ও সংস্কৃতির চিত্র।
ছবির কাহিনিতে দেখা যায়, ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচিত হওয়ার পর এক তরুণ প্রথম দেখাতেই মেয়েটিকে কৌশলে ঘুম পাড়িয়ে অপহরণ করে সমতল এলাকায় নিয়ে যায়। ভয়ের মধ্যে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক রূপ নেয় গভীর ভালোবাসায়। পুরো গল্প জুড়ে নেপালের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং সামাজিক বাস্তবতা জীবন্ত হয়ে ধরা দেয়।
ছবিটির মুক্তির একদিন আগে, ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকার এয়ারপোর্ট রোডের স্টার সিনেপ্লেক্স সেন্টার পয়েন্ট শাখায় আয়োজন করা হবে প্রিমিয়ার শো। এতে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত, পরিচালক দীপেন্দ্র গাউছান, প্রযোজকসহ সিনেমার কলাকুশলী ও বাংলাদেশের ‘ন ডরাই’-এর নির্মাতা ও শিল্পীরা।
স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ বিপণন ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই সিনেমা শুধু বিনোদনই নয়, বরং এটি দুই দেশের সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র বিনিময়ের নতুন দিগন্তও উন্মোচন করবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সরকার উপমহাদেশীয় সিনেমা মুক্তির বিষয়ে পাঁচ দফা শর্তে অনুমতি দেয়। সে ধারাবাহিকতায় বলিউডের ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’, ‘ডানকি’ এবং ‘অ্যানিমেল’ বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও সরাসরি কোনো নেপালি সিনেমার মুক্তি এই প্রথম।

মতামত দিন