বিনোদন
ছবি: সংগৃহীত

কানের রেড কার্পেটে মোদির লকেট পরে এলেন রুচি গুজ্জার।

সিনেমা নয়, আলোচনার কেন্দ্রে ভারতীয় মডেল রুচি গুজ্জার। কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেটে পা রেখে তিনি যেন চলচ্চিত্রের বাইরেও অন্য এক বার্তাই দিতে চাইলেন।

গোল্ডেন লেহেঙ্গা, কুন্দনের গহনায় সজ্জিত রুচির গলায় ঝুলছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখমণ্ডল সম্বলিত একটি বিশাল লকেট—আর এতেই শুরু বিতর্ক।

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসব মূলত সিনেমা, অভিনয় ও সৌন্দর্যের বৈচিত্র্য প্রদর্শনের এক মহামঞ্চ হলেও, রুচি যেন সেটিকে রূপান্তর করলেন রাজনৈতিক বার্তার প্ল্যাটফর্মে।

এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি দেখে প্রথমে অনেকেই বিস্মিত হলেও, পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। কেউ একে ‘নির্বাচনের প্রচারণা-সুলভ কৌশল’ বলে অভিহিত করছেন,আবার কেউ দেখছেন নিছক এক আত্মপ্রকাশের রূপকথা হিসেবে। তবে, অধিকাংশের চোখেই রুচির এই লকেট যেন রাজনৈতিক প্রেরণারই প্রতিচ্ছবি।

রুচি গুজ্জার, যিনি মূলত ভারতের উত্তরাঞ্চলের গ্ল্যামার ও রিয়েলিটি শো জগতের পরিচিত মুখ, ইতিপূর্বে বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। তবে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলে তার সম্পৃক্ততার তথ্য নেই। তবুও কান ফেস্টিভালের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদির মুখাবয়ব গলায় ধারণ করে হাজির হওয়াটা নিঃসন্দেহে ইঙ্গিতবহ বলে মনে করছেন অনেকে।

একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, কান চলচ্চিত্র উৎসবের মতো ‘অরাজনৈতিক’ এক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের প্রতীক ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়েই।

ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন এক মুহূর্তে এই উপস্থিতিকে কেউ কেউ ‘নরম হিন্দুত্ববাদী চিত্রের গ্ল্যামারাইজেশন’ হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন।

তবে এ বিষয়ে রুচি গুজ্জার এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য দেননি। তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, ‘‘তিনি কেবল তার ‘প্রিয় নেতার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ’ করেছেন, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।’’

উৎসব কর্তৃপক্ষও এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এই লকেট-বিতর্ক নিঃসন্দেহে কান উৎসবের চলতি আসরের আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

মতামত দিন