ঘোড়ার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েননি মনু মিয়া, পাশে দাঁড়ালেন খায়রুল বাসার।
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনু মিয়া জীবনে ৩ হাজারেরও বেশি কবর খুঁড়েছেন। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই গোরখোদকের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী ছিল একটি ঘোড়া—যার পিঠে চড়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের প্রয়োজনে ছুটে গেছেন তিনি।
গতকাল সোমবার (২০ মে) নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করে খায়রুল বাসার লিখেছেন, “মনু মিয়াকে আমি ঘোড়া কিনে দিতে চাই। বিনিময়ে আমার কবর খোঁড়া পর্যন্ত আল্লাহ উনাকে বাঁচিয়ে রাখুন।” পাশাপাশি তিনি মনু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা চেয়েছিলেন।
রাতেই হাসপাতালে মনু মিয়ার সঙ্গে দেখা করেন খায়রুল বাসার। পরদিন মঙ্গলবার নিজের ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাসে তার সঙ্গে হওয়া আলাপের অনুভূতি শেয়ার করেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন,“মনু চাচা দোয়া ছাড়া কিছু চান না আপনাদের কাছে।উনি বলেন—আপনারা ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন, সেটাই তার চাওয়া।”
ঘোড়ার মৃত্যুতে কষ্ট নেই বলে জানিয়েছেন মনু মিয়া। খায়রুল বাসারের ভাষ্যে,“তিনি বলেন,‘ঘোড়ার কপালে আল্লাহ যতটুকু সময় লিখেছিলেন, ততটুকুই ছিল। সে মরেছে, আমি চোখে দেখি নাই, তাই কষ্টটাও হচ্ছে না।’ ঘোড়ার মৃত্যুর পেছনে কারা দায়ী, তা নিয়েও তার কোনো অভিযোগ নেই।”
মনু মিয়ার জীবনযাত্রা এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েও কথা বলেন খায়রুল বাসার। তিনি লেখেন, “মানুষের বাইক-সাইকেলের শখ থাকে, আর মনু চাচার শখ ছিল হাতেম তাঈ হওয়া—ঘোড়ার পিঠে চড়ে মানুষের দরজায় পৌঁছে যাওয়া। জীবনের সাধ্য অনুযায়ী সবচেয়ে মহৎ কাজটাই করে গেছেন তিনি।”
অভিনেতা জানান,মনু মিয়া কারও কাছে সাহায্য চাওয়া পছন্দ করেন না।তিনি বিশ্বাস করেন—সবই ভাগ্যের ব্যাপার। সুস্থ হয়ে ফিরে গেলে প্রয়োজনে নিজেই সাতটা ঘোড়া কিনে নিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ঘোড়ার মৃত্যুকে জীবনের একটি অধ্যায় বলেই মেনে নিয়েছেন মনু মিয়া। এখন তার একমাত্র চাওয়া — দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও কাজে ফিরতে পারা।
মতামত দিন