বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

বাদুড় কি অন্ধ? বিজ্ঞান বলছে, এই প্রচলিত ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল।

‘বাদুড়ের মতো অন্ধ’—বাংলা প্রবাদে বহুল ব্যবহৃত হলেও এটি আসলে একেবারেই বৈজ্ঞানিক সত্য নয়। বহুদিন ধরেই মানুষের ধারণা, বাদুড় চোখ দিয়ে দেখে না, বরং শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে দিক নির্ণয় করে।

তবে বিজ্ঞান বলছে, বাদুড় মোটেও অন্ধ নয়। তাদের ছোট ছোট চোখ রয়েছে এবং সেই চোখ যথেষ্ট কার্যকরও।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বাদুড় আবছা আলোয় দেখতে পায় এবং রাতের আঁধারে পথ খুঁজতে ও শিকার ধরতে তাদের দৃষ্টিশক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখে। যদিও মানুষের মতো তাদের চোখে রঙিন দৃশ্য পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে না, তবে রাতের পরিবেশে টিকে থাকার জন্য যা দরকার, সেই দক্ষতা তাদের আছে।

অনেকেই বাদুড়ের ইকোলোকেশন ক্ষমতার কারণে ভুল করে ধরে নেন তারা চোখে দেখে না। ইকোলোকেশন বলতে বোঝায়—বাদুড় উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে এবং সেই শব্দ বস্তুর গায়ে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে এলে তা শুনে আশপাশের জিনিসের অবস্থান, আকার ও গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা নেয়। কিন্তু এটি বাদুড়ের মূল বা একমাত্র দিকনির্দেশক পদ্ধতি নয়।

বাদুড়ের প্রজাতি অনুযায়ী তাদের দৃষ্টিশক্তির তারতম্য রয়েছে। ফল খাওয়া বাদুড়, যাদের ‘মেগাব্যাট’ বলা হয়, তাদের বড় বড় চোখ থাকে এবং তারা প্রধানত দৃষ্টিশক্তির ওপর নির্ভর করে খাবার খুঁজে পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মেগাব্যাটের চোখ মানুষের চেয়েও কার্যকর। অন্যদিকে, যেসব ছোট আকৃতির বাদুড় পোকামাকড় খায়, তারা শব্দ নির্ভর করে শিকার ধরলেও চোখের ব্যবহার বাদ দেয় না।

বিজ্ঞানীরা আরও দেখেছেন, উড়ন্ত অবস্থায় বাদুড় যখন কোনো শিকার থেকে প্রতিধ্বনি পায়, তখন তার অবস্থান নির্ধারণে চোখ ব্যবহার করে। শুধু তা-ই নয়, কিছু বাদুড় অতিবেগুনি রশ্মিও দেখতে পারে, যা তাদের ফুল ও ফল শনাক্তে সহায়তা করে। আবার কিছু প্রজাতি শিকারের শরীরের তাপমাত্রা অনুভব করতে সক্ষম।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বাদুড় অন্ধ নয়—বরং তারা চোখ ও কান উভয়কেই কার্যকরভাবে ব্যবহার করে, যা তাদের পৃথিবীর অন্যতম চতুর ও অভিযোজিত নিশাচর প্রাণীতে পরিণত করেছে। সুতরাং, ‘বাদুড়ের মতো অন্ধ’ বলাটা আসলে এক চরম ভুল ধারণার প্রতিফলন।

মতামত দিন