বিল গেটসের অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রে কয়লার বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম সূর্য বানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ক্ল্যাক্সটন এলাকায় ‘বুল রান ফসিল’ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দীর্ঘদিনের বিশাল চিমনি ইতিহাসের পাতায় চলে যাচ্ছে। বিল গেটসের অর্থায়নে পরিচালিত টাইপ ওয়ান এনার্জি প্রতিষ্ঠান সেখানে একটি আধুনিক ফিউশন রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করছে, যা বিজ্ঞানীদের মধ্যে ‘কৃত্রিম সূর্য’ নামে পরিচিত।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি, প্রতিষ্ঠানটি টেনেসি ভ্যালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে ইনফিনিটি ওয়ান প্রকল্পের জন্য লাইসেন্সের আবেদন জমা দিয়েছে। এটি সফল হলে টেনেসিতে প্রথম বাণিজ্যিক ফিউশন প্রকল্প হিসেবে ইতিহাস তৈরি হবে। ফিশন পদ্ধতির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপরীতে, ফিউশনে হালকা পরমাণু একত্রিত করে বিপুল শক্তি উৎপাদন করা হয়, যা সূর্য ও নক্ষত্রের শক্তি উৎপাদনের নীতির মতো। এতে তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
ইনফিনিটি ওয়ান রিঅ্যাক্টর ‘স্টেলারটর’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে। যদিও বিশ্বে বেশিরভাগ ফিউশন রিঅ্যাক্টর টোমাকাক বা ডোনাট আকৃতির, স্টেলারটরের জটিল নকশা প্লাজমাকে দীর্ঘসময় স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম। এখানে হাইড্রোজেন প্লাজমাকে প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াসে উত্তপ্ত করা হয়, যা সূর্যের কেন্দ্রের চেয়েও অনেক গুণ বেশি গরম। প্লাজমাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হয় অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বকীয় কয়েল।
ফিউশন প্রযুক্তি প্রচলিত পারমাণবিক কেন্দ্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ নয়। ২০২৩ সালে মার্কিন নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, ফিউশন রিঅ্যাক্টরকে কঠোর পারমাণবিক বিধিনিষেধের পরিবর্তে কণা ত্বরক যন্ত্রের মতো বিবেচনা করা হবে, যা প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে।
টাইপ ওয়ান এনার্জি জানিয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে ইনফিনিটি ওয়ান রিঅ্যাক্টরটি সম্পূর্ণ কার্যকর করা হবে। ভবিষ্যতে তারা আরও বড় প্রকল্প ইনফিনিটি টু নামে ৩৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মতামত দিন