মরুভূমিকে উর্বর মাটিতে রূপান্তরের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।
চীনের বিজ্ঞানীরা মরুভূমির অনুর্বর বালুকে মাত্র ১০ থেকে ১৬ মাসের মধ্যে উর্বর মাটিতে পরিণত করার এক নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। গবেষণাগারে তৈরি বিশেষ প্রজাতির অণুজীব বা মাইক্রোব ব্যবহার করে বালুকে এমন এক স্থিতিশীল স্তরে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়েছে, যা উদ্ভিদের শিকড় গজানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে।
উত্তর-পশ্চিম চীনের তাকলামাকান মরুভূমির বিভিন্ন অংশে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, এই প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াজাত বালুর ওপর কালো রঙের একটি আস্তরণ তৈরি হয়। এ আস্তরণ বালুর ওপর আর্দ্রতা ধরে রাখে, পুষ্টি উপাদান সংরক্ষণ করে এবং বায়ুপ্রবাহের কারণে মাটির ক্ষয় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনে।
গবেষণার মূল চাবিকাঠি হলো সায়ানোব্যাকটেরিয়া। এই প্রাচীন অণুজীব প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে প্রবেশ করেছিল এবং চরম প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। এগুলো সূর্যালোক ও বাতাস ব্যবহার করে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং বর্জ্য হিসেবে জৈব পদার্থ ত্যাগ করে, যা বালুতে উপযোগী মাটি গঠনে সহায়ক হয়। এছাড়া নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণের মাধ্যমে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করা হয়।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই আস্তরণযুক্ত বালু বৃষ্টির পরও দ্রুত শুকিয়ে যায় না এবং মাটির উপরের স্তরেই আর্দ্রতা ধরে রাখে। প্রথম বছরেই দেখা গেছে, এই স্তর নাইট্রোজেন ও ফসফরাসকে বালুর উপরের এক ইঞ্চি স্তরে জমা করতে শুরু করে, ফলে উদ্ভিদের জন্য পুষ্টিকর পরিবেশ গড়ে ওঠে। এছাড়া কালো পিগমেন্ট বাষ্পীভবন কমিয়ে চারাগাছের শিকড় গজানোর সময় বাড়িয়ে দেয়।
চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে মরুভূমিতে বারবার চারা মারা যাওয়ার সমস্যা কমে এবং মাটি দীর্ঘমেয়াদে উর্বর থাকে। গবেষকরা আশা করছেন, এই প্রযুক্তি মরুভূমি অঞ্চলগুলোতে বনায়ন, কৃষি সম্প্রসারণ এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
গবেষণার ফলাফল সাম্প্রতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সয়েল বায়োলজি অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রিতে-এ প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন, এই কৃত্রিম পদ্ধতির মাধ্যমে মরুভূমির বায়ু ও বালু নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জল এবং পুষ্টি সংরক্ষণ করা সম্ভব, যা আগামীতে বিশ্বের মরুভূমি অঞ্চলে পরিবেশ ও কৃষির জন্য বিপুল সম্ভাবনা খুলে দেবে।
মতামত দিন