বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের হুংকার, স্বাস্থ্যের জন্য সতর্কবার্তা

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

চীনের শিয়ান শহরের বাতাসে এখন কেবল ধূলিকণা বা ধোঁয়া নয়, বরং ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি বেড়েছে। সম্প্রতি শিয়ান জিয়াওটং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক বছরের মধ্যে শহরের বাতাসে এই সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণার মাত্রা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, পিএম–২.৫ আকারের কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। কোভিড–১৯ মহামারির আগে এবং পরে সংগৃহীত নমুনার তুলনা করে দেখা গেছে, বাতাসে প্লাস্টিকের উৎস ও প্রকার পরিবর্তিত হয়েছে। মহামারির সময় ব্যবহৃত মাস্কের ফলে প্লাস্টিকের স্বচ্ছ পলিপ্রোপিলিন তন্তু বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া সিনথেটিক কাপড়, গাড়ির টায়ার এবং প্লাস্টিকের প্যাকেজিং থেকেও ক্ষুদ্র তন্তু বাতাসে মিশে যায়।

গবেষকরা ফিল্টার বিশ্লেষণ করে পলিথিন টেরেফথালেট শনাক্ত করেছেন, যা সাধারণত পানীয় বোতল ও পোশাকে ব্যবহৃত হয়। ২০২০ সালের আগের নমুনায় বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক কণা থাকলেও মহামারির পরে সাদা ও স্বচ্ছ তন্তু বেশি দেখা গেছে।

সূর্যালোক এবং ওজোনের প্রভাব প্লাস্টিককে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত করে। ওজোনের কারণে প্লাস্টিকের পৃষ্ঠে ফাটল সৃষ্টি হয় এবং এতে ক্ষুদ্র তন্তু বাতাসে মিশে যায়। মানুষের পদচাপ, গাড়ির চাকা এবং শুষ্ক আবহাওয়া এই কণাকে আরও ক্ষুদ্র করে বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। প্রতিটি নিশ্বাসের সঙ্গে এই ক্ষুদ্র তন্তু শরীরে প্রবেশ করছে।

গবেষকরা পার্টিকেল ডসিমেট্রি ব্যবহার করে দেখেছেন, অধিকাংশ কণা প্রথমে নাক ও গলায় আটকে যায়। তবে অনেক সূক্ষ্ম কণা শ্বাসনালি পার হয়ে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে সক্ষম। শিশুদের শরীরের ওজনের তুলনায় শ্বাসের হার বেশি হওয়ায় তারা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার শ্বাসনালিতে প্রবেশ জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: আর্থ ডটকম

মতামত দিন