বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

মহাবিশ্বে অন্য কোনো সভ্যতার অস্তিত্ব রয়েছে কি না তার খোঁজে বিজ্ঞানীরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ভিনগ্রহে উন্নত কোনো সভ্যতা আদৌ আছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এতদিন যেভাবে কল্পনা করেছেন, বাস্তবতা হয়তো তার চেয়ে অনেক বেশি অস্বস্তিকর। নতুন এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, মহাবিশ্বে আমরা প্রথম যে সভ্যতার উপস্থিতি টের পাব, তা সম্ভবত কোনো শান্ত বা স্থিতিশীল সমাজের নয়।

বরং সেটি হতে পারে ধ্বংসের মুখে থাকা এক সভ্যতার শেষ চিহ্ন।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডেভিড কিপিং তার গবেষণায় ‘এশতিয়ান হাইপোথিসিস’ নামে একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন। এই ধারণা অনুযায়ী, সংকটাপন্ন সভ্যতাগুলোই মহাকাশে সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ে। কারণ, বিপর্যয়ের সময় তারা স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় বহুগুণ বেশি শক্তি ও অস্বাভাবিক প্রযুক্তিগত সংকেত ছড়িয়ে দেয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসেও এর উদাহরণ রয়েছে। প্রথম যে বহির্গ্রহগুলো আবিষ্কৃত হয়েছিল, সেগুলো ছিল পালসারের চারপাশে—যেসব নক্ষত্র অত্যন্ত শক্তিশালী ও অস্বাভাবিক বিকিরণ ছড়ায়। একইভাবে, কোনো সভ্যতা যখন টিকে থাকার শেষ লড়াইয়ে নামে, তখন তাদের তৈরি টেকনোসিগনেচার বা শক্তির ছাপ মহাকাশের স্বাভাবিক শব্দের ভিড় ভেঙে আলাদা হয়ে ওঠে।

এই গবেষণা আরও একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলে—পৃথিবী নিজেই কি এমন একটি অস্থির সভ্যতায় পরিণত হচ্ছে, যার সংকেত দূর মহাবিশ্বেও ধরা পড়তে পারে? জলবায়ু পরিবর্তন, সীমাহীন শক্তি ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত বিস্ফোরণ হয়তো আমাদের অস্তিত্বকে এক ধরনের বিপদের বার্তা হিসেবে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

কিপিংয়ের মতে, ভিনগ্রহী বুদ্ধিমত্তা খুঁজতে হলে শুধু ইচ্ছাকৃত পাঠানো রেডিও সংকেত নয়, বরং প্রকৃতির নিয়ম ভেঙে দেওয়া অস্বাভাবিক ঘটনাগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে—হঠাৎ নক্ষত্রের আলো বদলে যাওয়া, অদ্ভুত গ্যাস নিঃসরণ কিংবা অপ্রত্যাশিত শক্তির বিস্ফোরণ। এসবই হতে পারে কোনো সভ্যতার শেষ আর্তনাদ।

এই দৃষ্টিভঙ্গি মনে করিয়ে দেয়, মহাবিশ্বে প্রথম যে বুদ্ধিমত্তার দেখা আমরা পাব, তা হয়তো কৌতূহলের চেয়ে বেশি ভয় আর সতর্কতার জন্ম দেবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মতামত দিন