বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

হাতি রক্ষায় মৌমাছির ‘প্রতিকূলতার শব্দ’ কাজে লাগাচ্ছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে হাতির সংখ্যা ক্রমশ কমছে, কিন্তু তাদের এবং কৃষকদের মধ্যে সংঘাত কমাতে এক অদ্ভুত ও কার্যকর পদ্ধতি দেখা দিয়েছে—মৌমাছি। কেনিয়া, মোজাম্বিক, তানজানিয়া ও গ্যাবনের কিছু খামারে দেখা গেছে, হাতিরা সেই খামারের চারপাশে চলাচল এড়িয়ে চলে।

কারণ, মৌমাছির কামড়ের বেদনাদায়ক স্মৃতি হাতিরা দীর্ঘদিন মনে রাখে।

মানুষ প্রায়ই হাতির চলাচলের পথ, নদী এবং পানির উৎসের আশেপাশের জমিকে চাষের জন্য ব্যবহার শুরু করে। ফলে হাতির আগমনে কৃষকদের ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনা বেড়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির গবেষক ও বতসোয়ানায় বসবাসকারী বিজ্ঞানী টেম্প অ্যাডামস বলেন, “হাতির সঙ্গে সহাবস্থান কঠিন, কিন্তু মৌমাছি ব্যবহার করে আমরা কৃষকদের ফসল রক্ষা করতে পারি।”

বতসোয়ানায় হাতির সংখ্যা বেশি হলেও মৌমাছি কম। গবেষকরা বন্য হাতিদের কাছে মৌমাছির গুঞ্জন রেকর্ড করে বাজিয়ে পরীক্ষা চালান। দেখা গেছে, কিছু হাতি শব্দ শুনে দ্রুত সরে যায়, আর যারা আগে কামড়ের অভিজ্ঞতা পায়নি, তাদের প্রতিক্রিয়া কিছুটা ধীর। মোটামুটি ৫৩ শতাংশ হাতি মৌমাছির গুঞ্জনে স্পষ্টভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। শব্দ বাজানোর সময় চারটি হাতির দল প্রায় ৬৫ ফুট দূরে সরে যায়।

উত্তর বতসোয়ানার শুষ্ক পরিবেশ, কম ফুল ফোটার মৌসুম ও সীমিত পানির উৎসের কারণে মৌমাছি কম। তবে স্থানীয়ভাবে মৌমাছির উপস্থিতি বাড়িয়ে হাতি কৃষি জমির কাছে না আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই পদ্ধতি দিয়ে কৃষকদের ফসল রক্ষা এবং হাতি-মানুষ সংঘাত কমানো সম্ভব হচ্ছে।

সূত্র: আর্থ ডটকম

মতামত দিন