বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

ইউএফও নিয়ে ইলন মাস্কের স্পষ্ট বক্তব্য: ভিনগ্রহের আগমনের কোনো প্রমাণ নেই।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ভিনগ্রহের প্রাণী ও ইউএফও ঘিরে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ইলন মাস্ক আবারও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি নিজে কিংবা স্পেসএক্সের কেউই কখনো পৃথিবীতে ভিনগ্রহের প্রাণীর উপস্থিতির কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাননি।

সম্প্রতি আলোচিত এক ভিডিওতে মাস্ক বলেন, আকাশে অচেনা বস্তু দেখার ঘটনা প্রায়ই খবরের শিরোনাম হয়। তবে এসব ঘটনার পেছনে সাধারণত অতিপ্রাকৃত কিছু নয়, বরং বাস্তব ও ব্যাখ্যাযোগ্য কারণই দায়ী থাকে। তাঁর মতে, যেগুলোকে ইউএফও বলা হয়, তার বেশির ভাগই আসলে ভুল বোঝাবুঝির ফল।

মাস্ক যুক্তি দেন, স্পেসএক্স প্রতিদিন অসংখ্য স্যাটেলাইট ও মহাকাশযান পর্যবেক্ষণ করে। হাজার হাজার উৎক্ষেপণ ও নিয়মিত আকাশ নজরদারির পরও যদি ভিনগ্রহের প্রাণী পৃথিবীতে আসত, তাহলে মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত মানুষরাই প্রথম সেটি শনাক্ত করত।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় গোপন সামরিক প্রকল্প, নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, হাইপারসনিক অস্ত্রের পরীক্ষা বা উন্নত ড্রোনকে মানুষ ভিনগ্রহের যান ভেবে বসে। সাধারণ মানুষের চোখে যেগুলো রহস্যজনক মনে হয়, সেগুলো বাস্তবে প্রযুক্তিগত পরীক্ষার অংশ হতে পারে।

মাস্কের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তদন্তের ফলাফলের সঙ্গেও মিল খায়। বিভিন্ন তদন্তে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইউএফও ঘটনার পেছনে ড্রোন, বেলুন, আলোর প্রতিফলন কিংবা সেন্সরের ত্রুটি কাজ করে—ভিনগ্রহের প্রাণীর কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় না।

তবে ইউএফও নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও মহাবিশ্বে জীবনের অনুসন্ধানকে অস্বীকার করেন না মাস্ক। তাঁর মতে, মঙ্গল অভিযান, গভীর মহাকাশ গবেষণা ও ভবিষ্যৎ টেলিস্কোপ একদিন অন্য কোথাও জীবনের ইঙ্গিত দিতে পারে। কিন্তু অনুমান আর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মতামত দিন