বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বৃদ্ধিতে জ্যোতির্বিদ্যায় নতুন চ্যালেঞ্জ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে দ্রুত বাড়ছে স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সংখ্যা, যা ইতিমধ্যেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সমস্যা তৈরি করছে। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক সারা বিশ্বে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিলেও নাসার বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, ছবি গ্রহণে টেলিস্কোপের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নাসার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলো সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এবং শক্তিশালী আলো ছড়ায়। এর ফলে মহাকাশের ছবি গ্রহণে আলোর রেখা ও ব্যতিচারের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের মতো সরু দৃষ্টিকোণযুক্ত টেলিস্কোপে প্রায় ৪০ শতাংশ ছবি প্রভাবিত হচ্ছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ও চীনের কিছু টেলিস্কোপের ক্ষেত্রে সমস্যার মাত্রা আরও বেশি।

২০১৯ সালে নিম্ন কক্ষপথে স্যাটেলাইটের সংখ্যা ছিল প্রায় দুই হাজার। বর্তমানে তা বেড়ে ১৫ হাজারের ওপরে। ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ৫ লাখ ৬০ হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, স্যাটেলাইটের এই হুড়োহুড়ি আলোর দূষণ বাড়াবে এবং গ্রহাণু শনাক্তকরণ, গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে।

যদিও স্টারলিংক দ্রুত ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে, কিন্তু নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইটগুলো রেডিও টেলিস্কোপ ও অন্যান্য মহাকাশ-ভিত্তিক গবেষণায় বাধা তৈরি করছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে সময় ও প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মতামত দিন