বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পারমাণবিক বর্জ্য,চেরনোবিলের ‘হাতির পা’।
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল চেরনোবিলে ঘটে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর পারমাণবিক দুর্ঘটনা। সেই সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনা করছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন।
এই বস্তু গঠিত হয়েছে গলিত ইউরেনিয়াম জ্বালানি, রিঅ্যাক্টরের ধ্বংসপ্রাপ্ত কাঠামো, কংক্রিট ও বালুর মিশ্রণে। শীতল হয়ে জমে যাওয়ার পর এটি কালো, বীভৎস এবং হাতির পায়ের মতো কুঁচকানো রূপ ধারণ করে। ওজন প্রায় দুই টন এবং এখনও অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়।
প্রথমবারের মতো পরিমাপ করা হলে দেখা যায়, এলিফ্যান্টস ফুট থেকে প্রতি ঘণ্টায় নির্গত বিকিরণের মাত্রা প্রায় ১০ হাজার রঞ্জেন, যা কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষের প্রাণহানির জন্য যথেষ্ট। বস্তুটির কাছাকাছি দাঁড়ালে প্রথমে প্রায় কিছুই অনুভূত হয় না, তবে দু’দিনের মধ্যে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। দুই মিনিট অবস্থান করলে কোষ ভেঙে যেতে শুরু করে, চার মিনিটে জ্বর ও বমি শুরু হয়, আর পাঁচ মিনিট থাকলে মৃত্যুর আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি।
দূর্ঘটনার পর কর্মীরা রিঅ্যাক্টরের নিচের বাষ্প করিডরে পৌঁছেছিলেন, যেখানে তারা সরাসরি বস্তুটির সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। শুধুমাত্র দূর থেকে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা সম্ভব হয়।
২০০১ সালের পরিমাপ অনুযায়ী, এলিফ্যান্টস ফুট প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৮০০ রঞ্জেন বিকিরণ নিঃসৃত করছে। তবে অনুমান করা হয়, এটি এখনও কয়েক হাজার বছরের জন্য তেজস্ক্রিয় থাকবে।এর কারণে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক পারমাণবিক বর্জ্য হিসেবে চিহ্নিত।
এলিফ্যান্টস ফুট শুধু চেরনোবিল দুর্ঘটনার স্মৃতি নয়; এটি আমাদের সতর্ক করে যে পারমাণবিক শক্তি কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে কতটা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
মতামত দিন