বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রতলের অদৃশ্য ঝড়েই গলে যাচ্ছে অ্যান্টার্কটিকার ‘ডুমসডে’ হিমবাহ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

বরফে আচ্ছাদিত অ্যান্টার্কটিকা যেন এক রহস্যময় নিঃসঙ্গ মহাদেশ। তবে এই নিস্তব্ধতার নিচে চলছে অদৃশ্য এক প্রক্রিয়া—সমুদ্রের আড়ালে সৃষ্ট শক্তিশালী ঝড় হিমবাহগুলোকে ভিতর থেকে খেয়েযাচ্ছে।

নতুন গবেষণা বলছে, সমুদ্রতলের এই ঘূর্ণিঝড়সুলভ আবর্ত থোয়েটস ও পাইন আইল্যান্ড–—পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার দুই গুরুত্বপূর্ণ হিমবাহ—নিচ দিক থেকে দ্রুত ক্ষয় করছে।

বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন, খোলা সমুদ্রে উষ্ণ ও ঠান্ডা পানির সংঘাতে যে ঘূর্ণি তৈরি হয় তা উপরের কোনো ঝড়ের মতোই ভয়ংকর। এই ঘূর্ণি গভীর স্তরের উষ্ণ পানি হিমবাহের গহ্বরের দিকে ঠেলে দেয় এবং অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা স্বাদুপানিকে সরিয়ে দেয়। ফলে চারদিকে বরফ থাকলেও ভেতরে ভেতরে গলন থেমে থাকে না।
তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুন থেকে এই প্রবণতা আরও বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের গবেষক ম্যাট্টিয়া পোইনেলি বলেন, সমুদ্রের এমন আবর্ত দেখতে প্রায় ঝড়ের অবিকল প্রতিরূপ। পৃষ্ঠের দিকে উঠে এসে এগুলো হিমবাহের তলদেশে সরাসরি আঘাত হানে। যেখানে উষ্ণতার মাত্রা বেশি, সেখানেই গলনও ত্বরান্বিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে অ্যান্টার্কটিকার অন্যান্য অঞ্চলেও একই ধরনের প্রভাব দেখা যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, গত কয়েক দশকে পৃথিবীর বহু হিমবাহই পাতলা হয়ে পড়েছে। তার মধ্যেও সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা থোয়েটস—যাকে ডুমসডে হিমবাহ নামে বেশি পরিচিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে দুই কিলোমিটারেরও বেশি গভীরে থাকা এই বিশাল বরফস্তর যদি ভেঙে পড়ে, বৈশ্বিক সমুদ্রপৃষ্ঠ ১–২ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

হিমবাহ শুধু বরফ নয়; এগুলো পৃথিবীর তাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে এবং বিপুল স্বাদুপানি সংরক্ষণ করে। তাই বৃহৎ হিমবাহ একবার ভেঙে পড়লে তার প্রভাব সীমান্ত মানে না: উপকূলীয় শহরগুলো পানিতে নিমজ্জিত হবে, কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে, আর বহু দেশের অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

মতামত দিন