বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট বনাঞ্চল কার্বন শোষণের পরিবর্তে বেশি কার্বন নির্গত করছে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

অস্ট্রেলিয়ার ক্রান্তীয় রেইনফরেস্টে নতুন একটি প্রবণতা ধরা পড়েছে—এখন এই বন এলাকা কার্বন শোষণ করার পরিবর্তে বরং বেশি কার্বন নির্গত করছে। গবেষকরা বলছেন, এটি বিশ্বে প্রথম রেইনফরেস্ট যা “কার্বন সোর্স” হিসেবে কাজ করছে।

প্রথাগতভাবে, রেইনফরেস্টকে কার্বন সিঙ্ক হিসেবে গণ্য করা হয়। মৃত গাছ এবং তাদের শাখা থেকে নির্গত কার্বন নতুন গাছ শোষণ করে সমতুল্য পরিমাণে ধরে রাখে। কিন্তু কুইন্সল্যান্ডের বনাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, শুষ্কতা ও খরার কারণে অনেক গাছ মারা যাচ্ছে, আর নতুন গাছের জন্ম সীমিত। ফলে মৃত গাছের কাঠের অংশ—‘উডি বায়োমাস’—শোষণের পরিবর্তে কার্বন বাতাসে ছেড়ে দিচ্ছে।

ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির হান্না কার্লে বলেন, “নতুন গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বনাঞ্চল আর কার্বন শোষণ করছে না। এটি জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র আবহাওয়ার কারণে আরও বেশি গাছ মারা যাচ্ছে, যা বনাঞ্চলের পুনরুদ্ধারকে কঠিন করছে। প্যাট্রিক মেয়ার সতর্ক করেছেন, “সম্ভবত অন্যান্য ক্রান্তীয় বনও এই প্রভাব অনুভব করবে।”

অস্ট্রেলিয়ার নতুন কার্বন হ্রাস লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, আগামী দশ বছরে ২০০৫ সালের তুলনায় ৬২ শতাংশ কার্বন নির্গমন কমানো হবে। তবে জীবাশ্ম জ্বালানিতে দেশটির নির্ভরতা এবং বৃহৎ প্রকল্প, যেমন উডসাইড নর্থ ওয়েস্ট শেলফের দীর্ঘমেয়াদি অনুমোদন, পরিবেশগত উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, বনাঞ্চল থেকে কার্বনের অতিরিক্ত নির্গমন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবকে আরও তীব্র করবে। অস্ট্রেলিয়ার আর্দ্র ক্রান্তীয় বন এখন বৈশ্বিক জলবায়ু হুমকির মুখে সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি।

মতামত দিন