বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে স্টারলিংকের লাইসেন্স অনুমোদন করলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বৈশ্বিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। সোমবার (২৮ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্টারলিংকের লাইসেন্স অনুমোদন করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শ্রীলঙ্কার পর দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে স্টারলিংক সেবা চালু হলো। দেশব্যাপী উচ্চগতির, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে স্টারলিংকের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের বারবার ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনায় জনগণের মধ্যে বিকল্প ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠার দাবি প্রবল হয়ে ওঠে। এই জনদাবির প্রেক্ষিতে স্টারলিংককে বাংলাদেশে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব একটি দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্য ছিল প্রধান উপদেষ্টার। বিশেষ করে হাওর-বাওর, দ্বীপাঞ্চল, দুর্গম পার্বত্য এলাকা এবং উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে মানসম্পন্ন ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে স্টারলিংকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। এ লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা নিজে স্পেসএক্স সিইও ইলন মাস্ককে ফোন করে ৯০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানান। বিডা, বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যৌথভাবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কাজ করেছে।”

ফয়েজ তৈয়্যব আরও জানান, স্টারলিংকের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত হবে, যা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও চালু থাকবে—যেখানে প্রচলিত আইএসপি ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়। দেশের ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা এবং টেলিযোগাযোগ টাওয়ারগুলোর ৬৫ শতাংশ ফাইবার সংযোগের বাইরে থাকায়, স্টারলিংক এসব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তিনি বলেন, “স্টারলিংক মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে। প্রচলিত ভয়েস কল ও ডেটা বান্ডেলভিত্তিক সেবা থেকে ডিজিটাল সার্ভিসকেন্দ্রিক নতুন ইকোসিস্টেমের দিকে এগিয়ে যাবে দেশ। এর ফলে শহর-গ্রাম নির্বিশেষে উচ্চগতির, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের নিশ্চয়তা তৈরি হবে।”

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গত ২৫ মার্চ ‘নন-জিওস্টেশনারি অরবিট (এনজিএসও) স্যাটেলাইট সার্ভিসেস অপারেটর ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক লাইসেন্সিং গাইডলাইন জারি করে। এর আওতায় স্টারলিংক প্রযোজ্য ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করে বিটিআরসিতে আবেদন করে। পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ২৯৪তম কমিশন সভায় স্টারলিংকের লাইসেন্স ইস্যুর নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মতামত দিন