মস্তিষ্কে ধানের দানার মতো ক্ষুদ্র ইমপ্ল্যান্ট, স্নায়ুবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত।
মস্তিষ্কের কাজ বোঝার দৌড়ে বিজ্ঞানীরা এবার তুলে এনেছেন এক অতি ক্ষুদ্র যন্ত্র—যার আকার ধানের দানাকেও হার মানায়। এই ক্ষুদ্র ইমপ্ল্যান্ট মস্তিষ্কের ভেতরকার বৈদ্যুতিক সংকেত ধরতে পারে এবং সেই তথ্য বাইরে পাঠায় তার ছাড়াই।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যালিওশা মলনার জানান, এত ছোট আকারে স্নায়ু কার্যকলাপ মাপার সক্ষমতা আগে কখনো দেখা যায়নি। ইমপ্ল্যান্টটির দৈর্ঘ্য কয়েকশ মাইক্রোমিটার; চওড়াও মানুষের চুলের মতো সরু। ইনফ্রারেড আলোকে ব্যবহার করে এটি স্নায়ুর সংকেতকে বিশেষ কোডে রূপ দেয়, এরপর সেই আলোই সংকেতকে খুলে দেয়ার মতোভাবে টিস্যু-হাড় পেরিয়ে বাইরে থাকা রিসিভারে পৌঁছে দেয়।
এই ধারণার বীজ বপন করেছিলেন মলনার দুই দশকেরও বেশি আগে। দীর্ঘ গবেষণা ও উন্নয়নের পর অ্যালুমিনিয়াম গ্যালিয়াম আর্সেনাইড ব্যবহার করে তৈরি ডায়োডভিত্তিক এই যন্ত্রটি আলো থেকেই শক্তি নেয়—আবার সেই আলো দিয়েই তথ্য পাঠায়।
গবেষকেরা বলেন, মোটের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি আধুনিক মাইক্রোচিপের মতো নকশা অনুসরণ করেছে। সংকেতকে আরও স্থির রাখতে অপটিক্যাল এনকোডিং ও খুব কম শব্দযুক্ত অ্যাম্প্লিফায়ার ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্য পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে পালস–পজিশন পদ্ধতি, যা অল্প শক্তিতেই পরিষ্কার ডেটা পাঠাতে সক্ষম।
প্রথমে সেল কালচারে পরীক্ষা চালানো হয়। পরে ইঁদুরের মস্তিষ্কে স্থাপন করার পর ইমপ্ল্যান্টটি একটানা এক বছরের বেশি সময় ধরে স্নায়ুবিক কার্যকলাপ রেকর্ড করেছে। প্রচলিত ইলেকট্রোড যেখানে মস্তিষ্কের টিস্যুতে জ্বালা বা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, সেখানে মোট খুব কম বিরক্তি তৈরি করে বলে গবেষকদের দাবি। তাঁদের ধারণা, ভবিষ্যতে মেরুদণ্ডসহ আরও অনেক সংবেদনশীল অঙ্গেও এমন প্রযুক্তি কাজ করতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মতামত দিন