বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো গ্রহাণু ‘ধরে আনা’র পরিকল্পনা, মহাকাশে ক্যাপচার ব্যাগ পরীক্ষায় সফলতা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পৃথিবীর ধাতব সম্পদ দ্রুত কমে আসছে—এই বাস্তবতা মাথায় রেখে বিজ্ঞানীরা নজর দিচ্ছেন সৌরজগতের ভাসমান শিলাখণ্ডগুলোতে। গ্রহাণুগুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান ধাতু থাকায় ভবিষ্যতের খনন শিল্পকে মহাকাশে সরিয়ে নিতে চাইছেন গবেষকেরা।

এই ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সঅ্যাস্ট্রা তৈরি করছে গ্রহাণু ‘বন্দী’ করার এক বিশেষ প্রযুক্তি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরা যে যন্ত্রটি বানাচ্ছেন, তা দেখতে অনেকটা বাতাসে ভেসে থাকা বিশাল কাপড়ের থলের মতো—কিন্তু উপাদানে অত্যন্ত শক্ত ও নমনীয়। এই ক্যাপচার ব্যাগ এমনভাবে পরিকল্পিত, যাতে ছোট শিলা থেকে শুরু করে বিশাল ওজনের গ্রহাণুকেও ঘিরে ফেলতে পারে। ক্যালটেক–সম্পর্কিত মহাকাশ প্রকৌশলী ও ট্রান্সঅ্যাস্ট্রার প্রতিষ্ঠাতা জোয়েল সার্সেল বলেন, “মহাকাশে খনন শুরু করতে হলে প্রথম চ্যালেঞ্জই হচ্ছে টার্গেটকে ধরে স্থিতিশীল করা। সেটাই আমরা সমাধান করার চেষ্টা করছি।”

প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করতে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে একটি প্রাথমিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষাটি ছিল এমন—যেন কোনো বস্তু পৃথিবীর কক্ষপথে ভাসছে, আর মহাকাশযানটি খুব ধীরে তার ওপর একটি মোড়ক তুলে ধরল। এই প্রক্রিয়া বাস্তবে সফল হলে পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা বেশ কিছু গ্রহাণুতে সরাসরি খনন করা সম্ভব হবে। এসব গ্রহাণুর অবস্থান তুলনামূলক নিকটবর্তী—শুধু কয়েকশ’ কিলোমিটার দূরে।

ট্রান্সঅ্যাস্ট্রা জানিয়েছে, বর্তমানে খনিজ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনটি গ্রহাণু–মিশন হয়েছে, যার প্রতিটিতে ব্যয় হয়েছে বিশাল অঙ্কের টাকা। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ক্যাপচার ব্যাগ সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায় বলে তারা মনে করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালেই প্রথম গ্রহাণুকে ‘ধরার’ চেষ্টা করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১.২ কোটি ডলার এবং নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স থেকে প্রায় ১.৫ কোটি ডলার তহবিল পেয়েছে।

বৃহত্তম সংস্করণের ব্যাগটি দিয়ে ১০ হাজার টন ওজনের গ্রহাণুও ধরা সম্ভব হবে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু খনিজ আহরণ নয়, পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে বেড়ানো অকেজো স্যাটেলাইট বা মহাকাশ–বর্জ্য অপসারণের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

মতামত দিন