বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

মহাশূন্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী স্থান—চূড়া নয়, ভূগোলের খেলা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

সন্ধ্যায় আকাশের দিকে তাকালে মনে হয়, তারারা ঠিক মাথার ওপর নেমে এসেছে।ওপরে তাকালে মহাকাশ যেন হাত বাড়ালেই  ছোঁয়া যাবে—এ রকম বিভ্রম খুবই স্বাভাবিক।

কারণ আমাদের চোখ দূরত্বকে সমানভাবে বিচার করতে পারে না। পৃথিবীর প্রতিটি জায়গা যে সমান উচ্চতায় নেই, সেটিও আমরা খেয়াল করি না। 

আবার অনেকে ভুল করে মনে করেন, পাহাড় যত উঁচু হবে,  মহাশূন্য তত কাছে। কিন্তু পৃথিবী যে নিখুঁত গোলাকার নয়—এই তথ্যটিই সব হিসাব বদলে দেয়। চ্যাপ্টা কমলার মতো পৃথিবীর মধ্যভাগ একটু ফুলে আছে, আর সেই কারণে বিষুবরেখার অঞ্চলগুলো প্রকৃতপক্ষে মহাবিশ্বের দিকে বেশি এগিয়ে থাকে।

আমাদের ধারণায় সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ হলো মাউন্ট এভারেস্ট। কিন্তু মহাশূন্যের সবচেয়ে কাছের স্থানের খেতাব এভারেস্টের নয়—এই সম্মান গেছে ইকুয়েডরের মাউন্ট চিম্বোরাজোর ঝুলিতে। অবাক হলেও সত্য, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতায় এভারেস্ট অনেক ওপরে থাকলেও পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে দূরত্ব হিসেবে চিম্বোরাজোই শীর্ষে। কারণ, বিষুবীয় স্ফীতির ফলে চিম্বোরাজোর অবস্থান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে স্বাভাবিকভাবেই আরও দূরে ঠেলে গেছে।

পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে এর মাঝের অংশ ফুলে ওঠে। ফলে বিষুবরেখার ব্যাস মেরু এলাকার ব্যাসের তুলনায় প্রায় ২১ কিলোমিটার বেশি। এ কারণেই উচ্চতার সাধারণ পরিমাপ (সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গণনা) বাস্তব দূরত্বের পুরো চিত্র তুলে ধরে না। পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে মাপলে বিষুবরেখার কাছে থাকা যেকোনো শিখর আরও ওপরে উঠে যায়।

এভারেস্ট সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮,৮৪৮ মিটার উঁচু। অন্যদিকে চিম্বোরাজোর উচ্চতা মাত্র ৬,২৬৩ মিটার। কিন্তু কেন্দ্র থেকে দূরত্ব হিসেবে চিম্বোরাজোর চূড়া এভারেস্টের তুলনায় প্রায় ২ কিলোমিটার বেশি ওপরে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশান সার্ভিসের হিসাব বলছে—চিম্বোরাজোর চূড়া পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬,৩৮৪.৪ কিলোমিটার দূরে, আর এভারেস্টের দূরত্ব ৬,৩৮২.৩ কিলোমিটার। এই ২.১ কিলোমিটারের ব্যবধানই এটিকে পৃথিবীর পৃষ্ঠের সর্বোচ্চ বিন্দুতে পরিণত করেছে।

চিম্বোরাজো আসলে একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, ইকুয়েডরিয়ান আন্দিজ পর্বতমালার অংশ। কুইটো থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিষুবরেখার মাত্র এক ডিগ্রি নিচে দাঁড়িয়ে থাকা এই পর্বত বিষুবীয় স্ফীতির সুবিধা নিয়েই মহাবিশ্বের “সবচেয়ে নিকটবর্তী পৃষ্ঠবিন্দু” হয়ে উঠেছে।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি—মহাকাশের স্বীকৃত সীমানা কারমান লাইন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার ওপরে। পৃথিবীর কোনো পাহাড়ই সেই সীমা ছুঁতে পারে না। তাই “মহাকাশের সবচেয়ে কাছাকাছি” বলা মানে আসলে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ দূরত্বে অবস্থিত পৃষ্ঠবিন্দুকে চিহ্নিত করা।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

মতামত দিন