বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

দূর মহাবিশ্বে পাওয়া গেল সবচেয়ে শক্তিশালী ব্ল্যাকহোল ফ্লেয়ার।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

মহাকাশ পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা এমন এক অগ্নুশিখার সন্ধান পেয়েছেন, যার উজ্জ্বলতা প্রায় ১০ লাখ কোটি সূর্যের সমান। এত শক্তিশালী ব্ল্যাকহোল ফ্লেয়ার আগে কখনো ধরা পড়েনি—এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরে ও সবচেয়ে বৃহৎ আলোকচ্ছটা বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

ঘটনাটি ঘটছে পৃথিবী থেকে প্রায় এক হাজার কোটি আলোকবর্ষ দূরের এক অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের আশপাশে।

ধারণা করা হচ্ছে, বিশাল ভরের একটি নক্ষত্র অতিভারী ব্ল্যাকহোলের খুব কাছে চলে আসায় সেটি ভেঙে টুকরো টুকরো হচ্ছে, আর সেই ভাঙনের চাপেই এই অস্বাভাবিক শক্তি ছড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক ম্যাথিউ গ্রাহাম জানান, সূর্যের চেয়ে কমপক্ষে ৩০ গুণ বেশি ভরের নক্ষত্র যখন ব্ল্যাকহোলের নিয়ন্ত্রণে পড়ে, তখন যে ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে, সেটাই এই ফ্লেয়ারকে এত অস্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল করে তুলেছে।

তিনি বলেন, বিস্ফোরণের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা এত বেশি যে এটি আগের যেকোনো ফ্লেয়ারের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। ব্ল্যাকহোলের নিজের ভরও ভয়ংকর—সূর্যের ভরের প্রায় ৫০ কোটি গুণ। সাত বছরের বেশি সময় ধরে চলতে থাকা এই ঘটনার বিস্ফোরণ এখনো থামেনি বলেই ধারণা।

ফ্লেয়ারটি প্রথম নজরে আসে ২০১৮ সালে, যখন তিনটি স্থলভিত্তিক টেলিস্কোপে জরিপ চালানো হচ্ছিল। তখন শুধু এটিকে অস্বাভাবিক উজ্জ্বল বস্তু হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়। পরে ২০২৩ সালে হাওয়াইয়ের কেক অবজারভেটরি বিশদ পর্যবেক্ষণে নামে এবং ঘটনাটির প্রকৃতি পরিষ্কার হয়।

ম্যাথিউ গ্রাহাম জানান, এ ধরনের আবিষ্কার ব্ল্যাকহোলের আচরণ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মনে করা হয়, প্রায় প্রতিটি বৃহৎ গ্যালাক্সির কেন্দ্রে একটি অতিভারী ব্ল্যাকহোল থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ বলছে, অনেক ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রগুলো আরও সক্রিয় ও জটিল। ঘটনাস্থলের ব্ল্যাকহোলকে এখন জে২২৪৫+৩৭৪৩ নামে শনাক্ত করা হয়েছে এবং এটিকে অ্যাকটিভ গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

মতামত দিন