৪০ বছর আগে যেভাবে আবিষ্কৃত হয়েছিল টাইটানিক: সমুদ্রের তলদেশের রহস্য।
প্রায় ৪০ বছর আগে, ১ সেপ্টেম্বর ভোরে, গবেষণা জাহাজ নরের কমান্ড সেন্টারের ভিডিওতে ধাতব সিলিন্ডারের অস্পষ্ট সাদাকালো ছবি দেখা যায়। প্রথমে ধারণা করা হয় এটি সম্ভবত একটি ডুবে যাওয়া জাহাজের বয়লার।
ব্যালার্ড তখন তাঁর কেবিনে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তিনি স্মরণ করেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি লাফ দিয়ে উঠে ফ্লাইটসুটটি পায়জামার ওপর পড়ে থাকা অবস্থাতেই পরে নেন। পরের কয়েক দিন সুট খুলতে হয়নি। কমান্ড সেন্টারে পৌঁছে বয়লারের ছবি দেখে তাঁরা নিশ্চিত হন, এটি অবশ্যই টাইটানিকের অবশেষ।
১৯১২ সালে প্রথম যাত্রায় ডুবে যাওয়া এই আইকনিক জাহাজটি যুগের অন্যতম জনপ্রিয় রহস্য। সমুদ্র অভিযাত্রীদের জন্য ১৯৮৫ সালে ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া এমন ছিল, যেন মাউন্ট এভারেস্টে প্রথমবার আরোহণ করা। ব্যালার্ডের আগের প্রচেষ্টা, ১৯৭৭ সালের অভিযান, ব্যর্থ হয়েছিল। একটি ড্রিলিং পাইপ ভেঙে যাওয়ায় তিনি রিমোটলি অপারেটেড আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল (আরওভি) ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেন।
আমেরিকার নৌবাহিনী আর্গো নামের গভীর সমুদ্র ইমেজিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিল। হারিয়ে যাওয়া সাবমেরিনের খোঁজ করতে তারা ব্যালার্ডকে কিছু সময়ের জন্য টাইটানিক অনুসন্ধানের অনুমতি দেয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি ছিল নৌবাহিনীর গোপন মিশনের আড়াল।
ফরাসি প্রকৌশলীরা জাহাজ-মাউন্টেড সোনার সিস্টেম ব্যবহার করে কাজ শুরু করেন। ব্যালার্ডের দল স্রোতের মাধ্যমে টাইটানিকের অবস্থান নির্ণয় করে। ভারী ধ্বংসাবশেষ সরাসরি তলদেশে যায়, হালকা অংশ স্রোত ধরে দূরে চলে যায়—এই ধারণা কাজে আসে।
১৯৮৫ সালে আর্গো প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রথম সাদাকালো ভিডিও ধরা পড়ে। এক বছর পর রঙিন ক্যামেরা ব্যবহার করে গ্র্যান্ড সিঁড়ি, সুইমিংপুল এবং সামনের অংশ পর্যবেক্ষণ করা হয়। ব্যালার্ড অ্যালভিন নামের সাবমার্সিবলের মাধ্যমে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শনকারী প্রথম ব্যক্তি হন। এখানে তিনি শিশুর পুতুল, শ্যাম্পেনের বোতল এবং অন্যান্য নিদর্শন দেখতে পান।
ব্যালার্ড কেবল টাইটানিক নয়, মিড-আটলান্টিক রিজে নাজি যুদ্ধজাহাজ বিসমার্ক, বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস ইয়র্কটাউনসহ বিভিন্ন জাহাজের ধ্বংসাবশেষও আবিষ্কার করেছেন।

মতামত দিন