দক্ষিণ আটলান্টিকের ওপর দুর্বল হচ্ছে পৃথিবীর প্রতিরক্ষামূলক চৌম্বকবলয়।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইএসএ) ২০১৩ সালে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র পর্যবেক্ষণে ‘সোয়ার্ম’ নামের একটি স্যাটেলাইট মিশন শুরু করে। তিনটি উপগ্রহ একযোগে কাজ করে চৌম্বকক্ষেত্রের শক্তি ও দিক নির্ণয় করছে। ওই তথ্য বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, দক্ষিণ আটলান্টিক অ্যানোমালি বা এসএএ নামে পরিচিত অঞ্চলে পৃথিবীর চৌম্বকবলয় অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে মহাকাশযান অতিক্রমের সময় তারা অতিরিক্ত বিকিরণের মুখে পড়ে, যা যন্ত্রপাতির ক্ষতি বা সাময়িক ত্রুটি সৃষ্টি করতে পারে।
ডেনমার্কের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ক্রিস ফিনলে বলেন, দক্ষিণ আটলান্টিক অ্যানোমালি একক কোনো অঞ্চল নয়; বরং এটি দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ধীরে ধীরে আফ্রিকার দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২০ সালের পর থেকে আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক অংশে চৌম্বকক্ষেত্রের শক্তি দ্রুত হ্রাস পেয়েছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর কোর থেকে সাধারণত দক্ষিণ গোলার্ধ হয়ে চৌম্বক রেখাগুলো বাইরে আসে, কিন্তু এই অ্যানোমালির নিচের অংশে কিছু রেখা অস্বাভাবিকভাবে বিপরীতমুখী হয়ে কেন্দ্রের দিকে ফিরে যাচ্ছে—ফলে সেখানকার চৌম্বকক্ষেত্র আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সাইবেরিয়ার ওপর চৌম্বকক্ষেত্র তুলনামূলক শক্তিশালী হলেও কানাডা অঞ্চলে তা অনেক দুর্বল। এ বিষয়ে ক্রিস ফিনলে বলেন, “পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র বুঝতে গেলে এটিকে একটি দণ্ডচুম্বকের মতো ভাবা উচিত—যার এক প্রান্ত শক্তিশালী হলে অন্য প্রান্ত কিছুটা দুর্বল হতে পারে।
সূত্র: আর্থ ডটকম

মতামত দিন