ঐতিহাসিক গতিপথ ধরে চলা বায়ুমণ্ডলীয় নদী এখন মেরুর দিকে সরে যাচ্ছে।
বায়ুমণ্ডলে চলমান এক সরু, আর্দ্রতার করিডরকে বায়ুমণ্ডলীয় নদী বলা হয়। এই নদী বাস্তবিক নদীর মতোই বিশাল পরিমাণ পানি বহন করে, তবে এখানে তরল পানির পরিবর্তে জলীয় বাষ্প থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারার বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক গতিপথ ধরে চলা এসব নদী এখন উভয় গোলার্ধের দিকে মেরুর দিকে সরে যাচ্ছে। গবেষক জে লি ও কুইংহুয়া ডিং এর মতে, এর ফলে উচ্চ অক্ষাংশে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের প্রকোপ বেড়েছে, এবং বিশ্বজুড়ে বৃষ্টির ধরণ পরিবর্তিত হচ্ছে।
গবেষকরা স্যাটেলাইট, আবহাওয়া বেলুন ও স্থলবদ্ধ স্টেশনের ১৯৭৯ সাল থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতি ঘণ্টার বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ জলীয় বাষ্প পরিবহনের করিডরগুলি ধীরে ধীরে মেরুর দিকে সরে গেছে। ঝড়ের গতিপথ লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকোর মধ্যবর্তী দূরত্বের সমানমতো পরিবর্তিত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, এই স্থানান্তরের পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন মূল কারণ। কিন্তু পরবর্তী বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে, সমুদ্রের অবস্থান ও তাপমাত্রার ভিন্নতাই বায়ুমণ্ডলীয় নদীর স্থান পরিবর্তনের প্রধান কারণ। বিশেষ করে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা এই নদীপ্রবাহকে প্রভাবিত করছে।
বিশ্বের সামগ্রিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং আবহাওয়ায় জেট স্ট্রিমের স্থানান্তরের কারণে বায়ুমণ্ডলীয় নদীও মেরুর দিকে সরে যাচ্ছে। এর ফলে পূর্বে শীতকালে নিয়মিত বৃষ্টি হওয়া এলাকায় খরা দেখা দিচ্ছে, আর উচ্চ অক্ষাংশের অঞ্চলগুলোতে বিরল ঝড়ের ঘটনা ঘটছে। এই গবেষণার ফলাফল ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: আর্থ ডটকম
মতামত দিন