টাইপ-১ ডায়াবেটিসে প্রথমবার জিনগত কোষ প্রতিস্থাপন সফল।
বিশ্বে প্রথমবারের মতো একজন টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীর শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে। তার শরীরে জিনগতভাবে পরিবর্তিত কোষ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এই সফলতা এসেছে।
নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণায় এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট লাইভ সায়েন্সে এই সাফল্যের খবর জানানো হয়েছে।
টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরের প্রতিরক্ষা প্যানক্রিয়াসে থাকা আইলেট কোষ ধ্বংস করে দেয়, যা ইনসুলিন উৎপাদনের জন্য জরুরি। ফলস্বরূপ, রোগীদের প্রতিদিন ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। যদিও আইলেট কোষ প্রতিস্থাপন এক সম্ভাব্য সমাধান, রোগীর শরীর সাধারণত নতুন কোষকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে শনাক্ত করে আক্রমণ করে। এই কারণে এখনো পর্যন্ত রোগীরা সারা জীবন রোগ প্রতিরোধ ওষুধ সেবন করে থাকেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
এই সমস্যা দূর করতে সুইডেন ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা সিআরআইএসপিআর (CRISPR) প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। দাতার প্যানক্রিয়াস থেকে নেওয়া আইলেট কোষে জিনগত পরিবর্তন আনা হয়, যাতে কোষগুলো রোগীর শরীরে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়।
প্রথমবারের মতো এই জিন সম্পাদিত কোষ মানবদেহে প্রতিস্থাপন করা হয়। ১২ সপ্তাহ পরও রোগীর শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে এবং কোনো রোগ প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই প্রাথমিক ফলাফল প্রমাণ করে যে জিন সম্পাদনার কৌশল কার্যকর।
গবেষণায় তিনটি জিন পরিবর্তন আনা হয়েছে। দুটি পরিবর্তন কোষের প্রোটিন কমিয়ে দেয়, যা শরীরের শ্বেত রক্তকণিকাকে নির্দেশ দেয় কোন কোষ বহিরাগত। তৃতীয় পরিবর্তনে সিডি ৪৭ প্রোটিনের উৎপাদন বাড়ানো হয়, যা অন্যান্য প্রতিরক্ষা কোষকে কোষটি আক্রমণ না করার সংকেত দেয়।
প্রতিস্থাপিত কোষ ইনজেকশনের মাধ্যমে রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়। শরীর কোষগুলোকে বহিরাগত মনে করেনি এবং তারা স্বাভাবিকভাবে ইনসুলিন উৎপাদন করেছে। যদিও পরীক্ষামূলকভাবে রোগী এখনও কিছু ইনসুলিন নিচ্ছেন এবং মাত্র অল্প কোষ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, চিকিৎসকরা আশাবাদী যে এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে টাইপ-১ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা খুলে দিতে পারে।
গবেষকরা দীর্ঘ মেয়াদে কোষগুলোর স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য রোগীদের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করবেন। এই সাফল্যের ফলে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

মতামত দিন