আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘের ভর ও বৈজ্ঞানিক রহস্য।
আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘকে আমরা সাধারণত হালকা তুলার মতো মনে করি। বাতাস যেখানে যায়, মেঘও প্রায় সেই পথে চলতে থাকে।
মেঘ মূলত ক্ষুদ্র জলকণা ও বরফকণার সমন্বয়ে গঠিত। এগুলো এতটাই ছোট যে বাতাসের উর্ধ্বমুখী প্রবাহ মেঘকে আকাশে ভাসিয়ে রাখে। তাই মেঘ কখনো মাটিতে পড়ে না।
যেসব মেঘ দেখতে পাই, সেগুলোকে বিজ্ঞানীরা কিউমুলাস মেঘ বলে। এ ধরনের একটি মাঝারি মেঘের ওজন ১ লাখ কেজি থেকে ১০০ কোটি কেজি পর্যন্ত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ১ কিলোমিটার লম্বা ও চওড়া কিউমুলাস মেঘের ওজন প্রায় ৫ লাখ কেজি হতে পারে—যা প্রায় ১০০টি হাতির সমান। এত বিশাল ওজন থাকা সত্ত্বেও মেঘ ভেসে থাকে কারণ মেঘের জলকণা ছোট ও পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব বেশি, আর মেঘের ঘনত্ব বাতাসের তুলনায় সামান্য কম।
পাহাড়ি এলাকায় গাড়ি চলাকালীন আমরা মেঘের মধ্যে ঢুকে যেতে পারি। তখন মেঘ একটু ভারী মনে হয় এবং নিচের দিকে অবস্থান করে। স্ট্র্যাটাস মেঘ সাধারণত ধূসর রঙের হয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। বিমান চলার সময় জানালা দিয়ে নিচে তাকালে এ ধরনের মেঘ দেখা যায়। এগুলোর ওজন প্রায় ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে সাইরাস মেঘ হালকা ও পালকের মতো আকারের হয় এবং বেশি উচ্চতায় ভেসে থাকে। এতে বরফকণা থাকে এবং এর ওজন তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ১০ হাজার কেজি।
মেঘের মোট ওজন নির্ণয় করা হয় তার মধ্যে থাকা জলীয় বাষ্পের ঘনত্ব ও মেঘের আয়তন বিবেচনা করে। রাডার, উপগ্রহ ও আবহাওয়ার বিমান ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা মেঘের জলকণার ঘনত্ব পরিমাপ করেন। তারপর মেঘের আয়তনের সঙ্গে ঘনত্বকে গুণ করে মেঘের মোট ওজন বের করা হয়।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স ও থটকো ডটকম

মতামত দিন