বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্য নিয়ে বিজ্ঞানীদের ভিন্ন ব্যাখ্যা।
দশকের পর দশক ধরে আটলান্টিক মহাসাগরের এক বিশেষ অঞ্চলকে ঘিরে রহস্য আর আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে। মায়ামি, বারমুডা ও পুয়ের্তো রিকো ঘিরে তৈরি হওয়া ত্রিভুজাকৃতি এলাকা বিশ্বজুড়ে পরিচিত “বারমুডা ট্রায়াঙ্গল” নামে।
তবে এসব কাহিনিকে বৈজ্ঞানিকভাবে খণ্ডন করছেন গবেষকেরা। অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানী কার্ল ক্রুসজেলনিকি জানান, মার্কিন সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলবিষয়ক সংস্থা (NOAA) এবং লয়েডস অব লন্ডনের গবেষণা পরিষ্কার করেছে যে, এই অঞ্চলে “অভিশাপ” বলে কিছু নেই। তাঁর মতে, যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় প্রাকৃতিক পরিবেশ, নৌ–বিমান চলাচলের চাপ এবং মানবিক ভুলের মধ্যেই।
ক্রুসজেলনিকির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বারমুডা ট্রায়াঙ্গল অন্য কোনো মহাসাগরীয় এলাকার তুলনায় আলাদা বিপজ্জনক নয়। বরং বিশ্বের ব্যস্ততম সমুদ্র ও আকাশপথের একটি হওয়ায় এখানে দুর্ঘটনার সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জাহাজ ও বিমানের সংখ্যা বিবেচনায় এই অঞ্চলের দুর্ঘটনার হার অন্য এলাকার সঙ্গে প্রায় সমান।
গবেষকেরা আরও ব্যাখ্যা করেছেন, এখানে শক্তিশালী সমুদ্রস্রোত, ঘন ঘন ঝড়, হারিকেন, প্রবল ঢেউ আর অগভীর প্রবালপ্রাচীরের মতো ঝুঁকি বিদ্যমান। এগুলোই হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। কিছু অঞ্চলে চৌম্বকীয় অসঙ্গতির কারণে নেভিগেশনে সমস্যা হয়, ফলে ক্যাপ্টেন বা পাইলট ভুল পথে চলে যান। পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ সরঞ্জাম বা পুরোনো পূর্বাভাস পদ্ধতিও ঝুঁকি বাড়ায়।
‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গল’ শব্দটির ব্যবহার শুরু হয় ১৯৬০-এর দশকে। লেখক ভিনসেন্ট গ্যাডিস প্রথম এ নাম ব্যবহার করেন, আর ১৯৭৪ সালে চার্লস বার্লিটজের বই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। পরে বিমানের পাইলট ব্রুস গারননের বর্ণিত “অদ্ভুত সুড়ঙ্গের মতো মেঘ” কাহিনি এই রহস্যকে আরও জনপ্রিয় করে। কিন্তু ক্রুসজেলনিকির মতে, সেটিও ছিল প্রাকৃতিক আবহাওয়াজনিত ভ্রম, অলৌকিক কিছু নয়।
অর্থাৎ বিজ্ঞানীদের দাবি, বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের গল্প আসলে কল্পনার চেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর, বাস্তবে এটি প্রকৃতি ও মানবিক ভুলের যৌথ ফলাফল।
মতামত দিন