ধলাই নদী: ভোলাগঞ্জের পাথরের উৎস ও যাত্রা।
ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে শিলা গঠনের প্রক্রিয়া তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথমত, পৃথিবীর গভীরে থাকা উত্তপ্ত লাভা বা ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে আগ্নেয় শিলা তৈরি করে—গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট এর উদাহরণ। দ্বিতীয়ত, বালি, কাদা ও জৈব পদার্থ জমাট বেঁধে পাললিক শিলা গঠন করে, যেমন বেলেপাথর ও চুনাপাথর। তৃতীয়ত, আগ্নেয় বা পাললিক শিলা উচ্চ তাপ ও চাপের প্রভাবে রূপান্তরিত হয় মার্বেল বা স্লেটের মতো শিলায়।
ভোলাগঞ্জ অঞ্চলে প্রধানত চুনাপাথরের স্তর জমা রয়েছে, যার মূল উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট। পাহাড়ি আবহাওয়ার প্রভাবে এসব বিশাল শিলা আস্তে আস্তে ভেঙে ছোট টুকরায় পরিণত হয়। বরফ গলা পানি কিংবা প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে সেগুলো নদীতে মিশে যায়। তবে ভারী পাথর নদীর উজানে বা তীরে থেকে যায়, আর হালকা অংশ স্রোতের সঙ্গে ভাটির দিকে গড়িয়ে যায়।
দীর্ঘ যাত্রাপথে নদীর পাথরগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ও তলদেশে ঘষা খেতে খেতে মসৃণ ও গোলাকার রূপ নেয়। এজন্য পাহাড়ি নদীর পাথর সাধারণত চকচকে ও গোল আকারে দেখা যায়। সমতল অঞ্চলে স্রোত দুর্বল হওয়ায় সেখানেই বেশি পাথর জমা হয়।
ভূতত্ত্ববিদরা এসব পাথর বিশ্লেষণ করে নদীর উৎস, প্রবাহের গতি, বয়স এবং প্রাচীন ভূপ্রকৃতির ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পান। এমনকি জীবাশ্মসমৃদ্ধ শিলা অতীতের পরিবেশ ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও জানায়।
মতামত দিন