নাইজারের দাবির মুখে নিউইয়র্কে ৫০ লাখ ডলারে বিক্রি হলো মঙ্গলের বিরল উল্কাপিণ্ড।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের সাহারা মরুভূমি থেকে দুই বছর আগে উদ্ধার হওয়া মঙ্গল গ্রহের বিরল উল্কাপিণ্ডটি গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিলামে বিক্রি হয়েছে। ২৪ কেজির বেশি ওজনের এই পাথরের দাম উঠেছে ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি।
‘NWA 16788’ নামে পরিচিত উল্কাপিণ্ডটি একটি বিশাল গ্রহাণুর আঘাতে মঙ্গল থেকে ছিটকে পড়ে প্রায় ১৪ কোটি মাইল ভ্রমণ শেষে পৃথিবীতে পৌঁছায়। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নাইজারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক অনুসন্ধানকারী এটি খুঁজে পান। উল্কাপিণ্ডটির আবিষ্কারক ও ক্রেতার নাম গোপন রাখা হয়েছে।
সোথেবিজ জানিয়েছে, এটি পৃথিবীতে আসা মঙ্গলের সবচেয়ে বড় খণ্ড, যার ওজন প্রায় ২৪ দশমিক ৬৭ কেজি। ২০২৫ সালের ৮ জুলাই নিলামের আগে এটি জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে সাহারায় উল্কাপিণ্ড ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকে, ফলে এখানকার পাথর আন্তর্জাতিক বাজারে দারুণ মূল্য পায়।
বৈজ্ঞানিক সাময়িকী হেরিটেজ-এর তথ্যমতে, উল্কাপিণ্ডটি প্রথমে এক আন্তর্জাতিক বিক্রেতার কাছে বিক্রি হয়, পরে ইতালির এক প্রাইভেট গ্যালারিতে পৌঁছায় এবং সেখানে বিজ্ঞানীরা এর গঠন ও উৎস নিয়ে গবেষণা করেন। এরপর এটি রোমে প্রদর্শিত হয়, সর্বশেষ নিউইয়র্কের নিলামে বিক্রি হয়।
নাইজার সরকার বলছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বেআইনি পাচারের মতো। প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান চিয়ানি সম্প্রতি দামি ও আধা মূল্যবান পাথর এবং উল্কাপিণ্ড রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে এসবের উৎস ও গতিপথ শনাক্ত করা যায়।
তবে সোথেবিজ দাবি করেছে, উল্কাপিণ্ডটির রপ্তানি ও পরিবহন আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউনেস্কো কনভেনশন অনুযায়ী উল্কাপিণ্ডও সাংস্কৃতিক সম্পদ হতে পারে, তবে মালিকানা ও চুরির প্রমাণ উপস্থাপন করা নাইজারের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে।
মতামত দিন