চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে চায় নাসা, দখল-প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র।
চাঁদের বুকে প্রথম পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০৩০ সালের মধ্যেই এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নাসা ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর কাছে এমন এক ধরনের চুল্লির প্রস্তাব চেয়েছে, যা অন্তত ১০০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। যদিও এটি পৃথিবীর সাধারণ একটি উইন্ড টারবাইনের তুলনায় অনেক ছোট, তবুও চন্দ্রপৃষ্ঠের কঠিন পরিবেশে এটি হবে টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম উপায়।
নাসার অস্থায়ী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মার্কিন পরিবহন সচিব শন ডাফি জানিয়েছেন, এই প্রকল্প শুধু মহাকাশ অভিযানের ভবিষ্যত নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও মহাকাশ অর্থনীতির কৌশলগত দিক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, চাঁদে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আগে এই প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাঁদে সৌরশক্তির উপর নির্ভরতা সীমিত, কারণ এক চন্দ্র দিবস পৃথিবীর প্রায় চার সপ্তাহের সমান সময় ধরে চলে—যার মধ্যে টানা দুই সপ্তাহ থাকে অন্ধকার। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি হয়। এ অবস্থায় পারমাণবিক চুল্লি হতে পারে একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস।
এদিকে, চীন ও রাশিয়াও একই লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। মে মাসে দুই দেশ ঘোষণা করে, তারা ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে চাঁদে। ফলে মহাকাশে শুরু হয়েছে নতুন এক শক্তির দৌড়। যুক্তরাষ্ট্রও দেরি করতে চায় না।
নাসা ২০২২ সালেই তিনটি কোম্পানির সঙ্গে ৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে চুল্লির নকশা তৈরির কাজ শুরু করেছিল। যদিও সাম্প্রতিক বাজেট সংকটে প্রকল্পের সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তবুও ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
অনেকেই মনে করছেন, যেই দেশ চাঁদে প্রথম কার্যকরভাবে চুল্লি বসাতে পারবে, সেই দেশই ভবিষ্যতের চন্দ্র সভ্যতায় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে।
মতামত দিন