পৃথিবীর ঘূর্ণন বাড়ছে, সময় গণনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
আমরা সবাই জানি, একটি দিন মানে ২৪ ঘণ্টা। এই নিয়মে চলে আমাদের ঘড়ি, রুটিন, অফিস-স্কুলের সময়সূচি।
বিজ্ঞানীরা কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করছেন, পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি মাঝে মাঝে বাড়ছে, অর্থাৎ প্রতিদিনের দৈর্ঘ্য একটু একটু কমে যাচ্ছে। আজকের দিন সেই পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ।
যদিও মিলিসেকেন্ডের এই ছোট্ট পরিবর্তন শুনতে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হতে পারে, তবে এর প্রভাব পড়তে পারে সময় গণনা পদ্ধতি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, আর ইন্টারনেট সার্ভার পরিচালনায়।
কেন পৃথিবী দ্রুত ঘুরছে?
-
চাঁদের প্রভাব: চাঁদের অবস্থানের পরিবর্তনের ফলে তার টান পৃথিবীর ঘূর্ণনে সামান্য পরিবর্তন আনে, যা দ্রুত ঘূর্ণনের কারণ হতে পারে।
-
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন: গলিত লোহা ও তরল পদার্থের ভেতরে চলাচল পৃথিবীর ঘূর্ণন গতিতে প্রভাব ফেলে।
-
বরফ গলা ও ভারসাম্য বদল: মেরু অঞ্চলের বরফ গলে পানি সমতলে ছড়িয়ে পড়ার ফলে ঘূর্ণন কিছুটা ধীর হতো, কিন্তু বর্তমানে এই প্রভাব কিছুটা কমেছে।
সময় গণনায় কী প্রভাব পড়তে পারে?
১৯৭২ সাল থেকে সময়ের সঠিক সমন্বয়ের জন্য মাঝে মাঝে ‘লিপ সেকেন্ড’ যোগ করা হয়েছে, যখন পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীর হতো। কিন্তু এখন পৃথিবীর দ্রুত ঘূর্ণনের ফলে ‘নেগেটিভ লিপ সেকেন্ড’ অর্থাৎ এক সেকেন্ড বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে—যা কোনোদিন ঘটেনি।
এ ধরনের পরিবর্তন ঘটলে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, স্যাটেলাইট সিস্টেম, ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট যোগাযোগে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
পৃথিবীর এই নতুন গতিবিধি আমাদের সময়ের প্রতি ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে

মতামত দিন