বুলেটপ্রুফ কাঠ উদ্ভাবনে বিপ্লবের সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকেরা।
গবেষণাগারে পরীক্ষা চালাতে গিয়ে গ্যাসচালিত বন্দুক দিয়ে সুপারউডের ওপর বুলেট ছোড়া হলে দেখা যায়, সাধারণ কাঠ সহজেই ছিদ্র হয়ে গেলেও এই সুপার কাঠের গায়ে আঘাত করেও বুলেট ঢুকতে পারেনি। এতে প্রমাণ মেলে এর বুলেট প্রতিরোধের ক্ষমতা।
এই অভিনব কাঠ উদ্ভাবন করেছে ‘ইনভেন্টউড’ নামের একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স লাউ মনে করেন, সুপারউড সামরিক ও নির্মাণ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে বুলেটপ্রুফ কাঠ ব্যবহার করে নির্মাণ করা যেতে পারে নিরাপদ আশ্রয়। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নির্মাণশিল্পেও এটি হতে পারে বিকল্প, কারণ কংক্রিট ও ইস্পাতের মতো উপকরণ জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাব ফেলে।
লাউয়ের ভাষায়, প্রাকৃতিক কাঠ দুর্বলতা রাখে—আর্দ্রতা, পোকামাকড় বা আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তাই কাঠের আভ্যন্তরীণ গঠন পরিবর্তন করে তাকে অনেক বেশি টেকসই ও স্থিতিস্থাপক করে তোলা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় কাঠের ভেতর থেকে বাতাস ও লিগনিন নামের প্রাকৃতিক পলিমার সরিয়ে নেওয়া হয় রাসায়নিক উপায়ে। এর ফলে কাঠের ঘনত্ব বাড়ে এবং উচ্চমাত্রার হাইড্রোজেন বন্ধন তৈরি হয়, যা কাঠকে করে তোলে পাতলা অথচ অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী। বর্তমানে পপলার গাছ থেকে কাঠ ব্যবহার শুরু হলেও ভবিষ্যতে বাঁশ দিয়েও এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা সম্ভব বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যেই পরিবর্তিত কাঠ দিয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন—গ্লুলাম কাঠ, যা আঠা দিয়ে স্তর করে তৈরি হয় এবং নির্মাণে বিম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ক্রস-লেমিনেটেড টিম্বার প্রযুক্তিতে একাধিক স্তরে সাজানো কাঠ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভবনের দেয়াল ও মেঝের প্যানেল। এসব কাঠ অনেক ক্ষেত্রে প্লাইউডের চেয়ে শক্তিশালীও হতে পারে।
এমনকি সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, কংক্রিটের বদলে এসব কাঠ ব্যবহারে ভবন নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় কার্বন নিঃসরণ প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
ব্রিটেনের ব্যাঙ্গর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মরওয়েনা স্পিয়ার বলেন, উদ্ভাবিত কাঠভিত্তিক এইসব প্রযুক্তি আগামীর নির্মাণশিল্পে বড় ধরনের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যে এরই মধ্যে বিভিন্ন সুপারউড দিয়ে জানালার ফ্রেম, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে রান্নাঘরের ক্যাবিনেট, এমনকি সিঁড়িও তৈরি হচ্ছে। অনেক কাঠে রয়েছে অগ্নিপ্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যও—ফলে এটি ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

মতামত দিন