বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

ডায়াবেটিস: কারণ, লক্ষণ, প্রকারভেদ ও প্রতিকার।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ডায়াবেটিস বা মধুমেহ হলো এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যার প্রধান বৈশিষ্ট্য রক্তে গ্লুকোজ বা চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া। সাধারণত শরীরের ইনসুলিন হরমোনের অপর্যাপ্ততা বা কার্যকারিতার সমস্যা থাকার ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।
ইনসুলিন হরমোন রক্ত থেকে কোষগুলোতে গ্লুকোজ প্রবেশ করাতে সাহায্য করে, যা শরীরের শক্তির প্রধান উৎস। যখন ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ করে না বা পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হয় না, তখন রক্তে গ্লুকোজ জমা হয় এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা শুরু হয়।

ডায়াবেটিস কেন হয়?

ডায়াবেটিসের প্রধান কারণগুলো হলো:

  • ইনসুলিন হরমোনের অভাব বা অকার্যকরতা

  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা

  • অপর্যাপ্ত শারীরিক ব্যায়াম

  • খারাপ খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ করে বেশি চিনি ও কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার

  • জিনগত প্রভাব বা পারিবারিক ইতিহাস

  • মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাপন

  • উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা

ডায়াবেটিসের প্রধান প্রকারভেদ

১. টাইপ ১ ডায়াবেটিস: এটি সাধারণত শিশু ও তরুণদের মধ্যে দেখা যায়।এখানে শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা খুব কম তৈরি করে। এটি একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যানক্রিয়াসের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।

২. টাইপ ২ ডায়াবেটিস: এটি বয়স্ক ও অতিরিক্ত ওজনযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এখানে  শরীর ইনসুলিন তৈরি করলেও কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখায় না, যার ফলে রক্তের চিনির মাত্রা বেড়ে যায়।

৩. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: গর্ভাবস্থায় কিছু মহিলার শরীরে অস্থায়ীভাবে রক্তে চিনি বেড়ে যায়, যা সন্তানের ও মায়ের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণসমূহ

  • বারবার প্রস্রাব হওয়া

  • অতিরিক্ত পানিশূন্যতা ও তৃষ্ণার্ততা

  • অনিয়মিত ক্ষুধা ও ওজন কমে যাওয়া

  • ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব

  • চোখের ঝাপসা দেখা

  • সংক্রমণের প্রবণতা বৃদ্ধি

  • ধীর ঘা সেরে ওঠা

  • ত্বকের কিছু অংশে কালচে ভাব বা ঘা

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ও জটিলতা

যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, ডায়াবেটিস বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা, স্নায়ুর ক্ষতি, চোখের সমস্যা (যা অন্ধত্বের কারণ হতে পারে), পায়ে ক্ষত বা সংক্রমণ ইত্যাদি।

প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণ

ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মাধ্যমে। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, সুষম ও কম কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন কিংবা ওষুধ গ্রহণ করাও অপরিহার্য। নিয়মিত রক্তের শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা এবং স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মনিটর করা উচিত।

ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগটির ক্ষতিকর প্রভাব  অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সঠিক জীবনযাপন অত্যন্ত জরুরি।

মতামত দিন