'ও' গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয় কেন?
বিশ্বজুড়ে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণে সবচেয়ে প্রচলিত ও গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হচ্ছে এবিও (ABO) সিস্টেম। ১৯০১ সালে অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার এই পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করেন।
লোহিত রক্তকণিকার (RBC) গায়ে থাকা অ্যান্টিজেন এবং রক্তরসে (প্লাজমা) থাকা অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের গ্রুপ নির্ধারিত হয়। ‘এ’ গ্রুপের রক্তে থাকে ‘এ’ অ্যান্টিজেন ও ‘বি’ অ্যান্টিবডি, ‘বি’ গ্রুপে থাকে ‘বি’ অ্যান্টিজেন ও ‘এ’ অ্যান্টিবডি, আর ‘এবি’ গ্রুপে উভয় অ্যান্টিজেন থাকলেও অ্যান্টিবডি থাকে না। অন্যদিকে, ‘ও’ গ্রুপের লোহিত রক্তকণিকায় কোনো অ্যান্টিজেনই থাকে না, কিন্তু প্লাজমায় উভয় অ্যান্টিবডিই (এ ও বি) উপস্থিত থাকে।
বিশেষ গুরুত্ব পায় ‘ও’ নেগেটিভ রক্ত। এই গ্রুপে ‘এ’, ‘বি’ কিংবা রিজাস (Rh) অ্যান্টিজেন কিছুই থাকে না। ফলে রোগীর রক্তের গ্রুপ জানা না থাকলেও, অস্ত্রোপচার কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে ‘ও’ নেগেটিভ রক্ত নিরাপদে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। এ কারণেই একে বলা হয় ‘সর্বজনীন দাতা’। তবে বিপরীতে, ‘ও’ নেগেটিভ রক্তধারীরা শুধুমাত্র তাদের নিজেদের গ্রুপের রক্তই নিতে পারেন।
যদিও ‘ও’ নেগেটিভ রক্তদাতারা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়, এই গ্রুপের মানুষ পৃথিবীর মাত্র ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক মানুষের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভ—যা প্রায় ৩৮ শতাংশ। রেডক্রসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো পজিটিভ রক্তগ্রুপের অধিকারী এবং তারা ‘ও’ পজিটিভ রক্ত নিতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে রক্তসংকট মোকাবিলায় এইসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ‘ও’ নেগেটিভ রক্তদাতাদের সংরক্ষণ ও উৎসাহিত করার দিকটিও সমান গুরুত্বের দাবি রাখে।
সূত্র: সায়েন্স, সায়েন্স ফোকাস, রেডক্রস।

মতামত দিন