বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

‘সুপার আর্থ’ এল ৯৮-৫৯এফ: প্রাণের খোঁজে আরও এক ধাপ এগিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

মহাবিশ্বে আমরা কি একা? বহুদিনের এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই এবার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নজরে এনেছেন এক নতুন গ্রহ— এল ৯৮-৫৯এফ, যেটি আকারে পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা বড় এবং অবস্থান করছে প্রাণ-সম্ভাব্য ‘হ্যাবিটেবল জোন’-এ।

গ্রহটি আবর্তন করছে এল ৯৮-৫৯ নামের একটি লাল বামন তারার চারপাশে, যা পৃথিবী থেকে মাত্র ৩৫ আলোকবর্ষ দূরে।

এই নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে পাঁচটি গ্রহ আবিষ্কৃত হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া এল ৯৮-৫৯এফ-কে বলা হচ্ছে ‘সুপার আর্থ’।

কানাডার মনট্রিয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রোটিয়ের ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন এক্সোপ্লানেটস (আইআরইএক্স)-এর বিজ্ঞানীরা এই আবিষ্কার করেছেন। গবেষক ক্যাডিয়ু জানান, “এই গ্রহপুঞ্জ নিয়ে এটাই সবচেয়ে বিস্তৃত ও সুনির্দিষ্ট গবেষণা। আমরা পৃথিবী ও মহাকাশ থেকে সংগৃহীত তথ্য মিলিয়ে যেভাবে এই সিস্টেম বিশ্লেষণ করেছি, তা ভবিষ্যতের গবেষণার পথ দেখাবে।”

প্রাণের সম্ভাবনা কোথায়?

এল ৯৮-৫৯এফ গ্রহটি তার নক্ষত্রকে ঘিরে একটি স্থিতিশীল কক্ষপথে ঘুরছে এবং তার থেকে পর্যাপ্ত তাপ ও শক্তি পাচ্ছে, ঠিক যেমন পৃথিবী পায় সূর্য থেকে। এর ভর পৃথিবীর প্রায় ২.৮ গুণ বেশি। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এখানে যদি বায়ুমণ্ডল থাকে, তাহলে তরল পানি থেকে শুরু করে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাব্য সংকেতও (biosignatures) থাকতে পারে।

আবিষ্কারের পেছনের ধাপ

২০১৯ সালে নাসার TESS টেলিস্কোপ এল ৯৮-৫৯ তারার চারপাশে প্রথম তিনটি গ্রহ শনাক্ত করে। এরপর ইউরোপিয়ান সাদার্ন অবজারভেটরি (ESO) চতুর্থ গ্রহের উপস্থিতি নিশ্চিত করে। আইআরইএক্স-এর দল সম্প্রতি পঞ্চম গ্রহ এল ৯৮-৫৯এফ শনাক্ত করে, যেটি প্রাণ-ধারণের উপযোগী অঞ্চলে অবস্থান করছে।

আইআরইএক্স পরিচালক রেনে দোয়ঁ এই গ্রহপুঞ্জকে “প্রাকৃতিক পরীক্ষাগার” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “এ ধরনের সিস্টেম থেকে আমরা বুঝতে পারি, ছোট নক্ষত্রের চারপাশে পাথুরে গ্রহ কেমন গঠিত হয় এবং কীভাবে তারা দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুমণ্ডল ধরে রাখে।”

এই গবেষণার পূর্ণ বিবরণ শিগগিরই The Astronomical Journal-এ প্রকাশিত হবে।

সুদূর নক্ষত্রে এই সম্ভাব্য প্রাণবান গ্রহের সন্ধান আমাদের মহাজাগতিক অস্তিত্ব নিয়ে ভাবনার পরিধি আরও বিস্তৃত করে। হয়তো এই ‘সুপার আর্থ’ই একদিন জানাবে, আমরা কি সত্যিই একা?

সূত্র : এনডিটিভি

মতামত দিন