বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদের রঙের বৈচিত্র্য কোথা থেকে আসে?

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

নিঃসন্দেহে রাতের আকাশের সবচেয়ে রহস্যময় দৃশ্যগুলোর একটি চাঁদ। কখনো তা জ্যোৎস্নার চাদরে মোড়ানো নিঃসঙ্গ রূপে ভেসে বেড়ায়, কখনো আবার রঙ বদলায়, হয়ে ওঠে লালচে, কমলা কিংবা নীলাভ।
এত রঙের খেলা কি সত্যিই চাঁদের? না কি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা?

চাঁদের নিজস্ব কোনো আলোক উৎস নেই—তবুও রাতের আকাশে আমরা তাকে উজ্জ্বল দেখে অভ্যস্ত। এর কারণ, চাঁদ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে আমাদের চোখে পৌঁছে দেয়। এই প্রতিফলনের ক্ষমতা নির্ভর করে চন্দ্রপৃষ্ঠের গঠন ও উপাদানের ওপর। মূলত ধূসর রঙের অ্যানোরথোসাইট শিলা দিয়ে গঠিত এই পৃষ্ঠ সূর্যের প্রায় সব রঙকেই শোষণ করে নেয়। ফলস্বরূপ, আমাদের চোখে চাঁদ সাধারণত ধূসর বা সাদাটে মনে হয়।

তবে চাঁদের রঙের পরিবর্তনের একটি বড় কারণ আমাদের নিজেদের বায়ুমণ্ডল। যখন চাঁদ খুব উঁচুতে থাকে, তখন তার আলো তুলনামূলকভাবে সরাসরি চোখে আসে, তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে না। তাই আমরা তখন প্রকৃত রঙটাই দেখতে পাই। কিন্তু যখন চাঁদ দিগন্তের কাছে অবস্থান করে, তখন তার আলোকে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে আলোর কণাগুলো বাতাসে থাকা ধুলো, জলীয় বাষ্প, ও অন্যান্য কণার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এর ফলে সূর্যের সাদা আলো ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে নীল ও বেগুনি রঙের তরঙ্গগুলো। এদের অনুপস্থিতিতে শুধু লাল ও কমলা রঙের আলোকরশ্মিই চোখে পৌঁছায়—ফলে চাঁদ হয়ে ওঠে লালচে বা কমলা।

সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে চন্দ্রগ্রহণের সময়। পৃথিবী তখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে পড়ে, এবং  পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে যায়। কিন্তু পুরোপুরি অন্ধকারে হারিয়ে না গিয়ে চাঁদ তখন গাঢ় লাল রং ধারণ করে—যা আমরা ব্লাড মুন নামে জানি। কেননা সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ঘুরে চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছায়, যেখানে শুধু লাল ও কমলা তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতিক্রম করতে পারে। ঠিক যেমন সূর্যাস্তের সময় আকাশ লালাভ দেখায়।

চাঁদের এই রঙবদলের পেছনে কোনো অলৌকিকতা নেই, বরং আছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অসাধারণ আলোর বিচ্ছুরণ প্রক্রিয়া। আর এই কারণেই রাতের আকাশে চাঁদ কখনো প্রেমিকের জোছনা, আবার কখনো লালচে এক গ্রহ-প্রতিমা!

মতামত দিন