বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রের স্রোতই পেঙ্গুইনের পথনির্দেশক: নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

অথৈ জলের বিশাল সাম্রাজ্য যেন রহস্যে মোড়া এক দুনিয়া। উড়তে না পারা পাখিদের জন্য বিশেষত সমুদ্র-নির্ভর প্রাণীদের জীবনযাপন সেখানে রীতিমতো চ্যালেঞ্জে ভরা।
তবে সেসব প্রতিকূলতা যেন নিত্যদিনের রুটিন ম্যাগেলানিক পেঙ্গুইনদের জন্য। পাড় থেকে বহু মাইল দূরে সমুদ্রে শিকার করে, তারপর আশ্চর্যজনক নির্ভুলতায় নিজের বাসায় ফিরে আসে এরা—যেন দুর্ধর্ষ কোনো নাবিক দল।

সম্প্রতি জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়ারস-এর বিজ্ঞানীরা নতুন এক গবেষণায় এমনই অভাবনীয় তথ্য সামনে এনেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, ম্যাগেলানিক পেঙ্গুইনরা শুধুমাত্র সাঁতারেই পারদর্শী নয়, বরং সমুদ্রের স্রোতের শক্তি ও দিকনির্দেশ ব্যবহার করেও তারা বাসায় ফিরে আসে অব্যর্থভাবে।

গবেষণার অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনার সান মাটিয়াস উপসাগরে ২৭টি প্রাপ্তবয়স্ক পেঙ্গুইনের শরীরে জিপিএসমোশন সেন্সর লাগিয়ে নজরদারি চালানো হয়। এতে দেখা যায়, স্রোতের গতি ও দিকের ভিত্তিতে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাতে কৌশল পরিবর্তন করে পেঙ্গুইনরা। স্রোত যখন শান্ত, তারা সোজা সাঁতার কাটে। আর যখন স্রোত জোরালো, তখন অনেক সময় দীর্ঘ পথ হলেও সেই স্রোতের অনুকূলে সাঁতার কেটে শক্তি বাঁচায়।

গবেষক রিচার্ড মাইকেল গানার বলেন, “পেঙ্গুইনরা তাদের অবস্থান ও ভূমির স্থানচ্যুতির পার্থক্য বুঝে গতি ও দিক সামঞ্জস্য করে। তারা যেন শক্তি ও কৌশলের নিখুঁত সমন্বয়ে ভেসে চলে।”

আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, যেসব পেঙ্গুইন দিনে কিংবা রাতে ৩১ মাইল পর্যন্ত সমুদ্রযাত্রা করেছে, তাদের ৮৫ শতাংশই নিজের প্রস্থান বিন্দুর ৯৮৪ ফুটের মধ্যেই ফিরে এসেছে। নির্ভুলতার এই হার ৯৯ শতাংশের বেশি!

গবেষকরা ধারণা করছেন, পেঙ্গুইনরা হয়তো চৌম্বক ক্ষেত্র শনাক্তকরণ, ঘ্রাণশক্তি কিংবা ইনফ্রাসাউন্ড—অতি নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ ব্যবহার করে দিক নির্ণয় করে। তাদের দৃষ্টির সাহায্য না নিয়ে এমন দিকজ্ঞান বিজ্ঞানীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

সমুদ্রকে ঘিরে পেঙ্গুইনের জীবন এখনও অনেক দিক থেকে রহস্যময়। তবে এই গবেষণা জানিয়ে দিচ্ছে—প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা পেঙ্গুইনদের জীবনবৃত্তে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: আর্থ

মতামত দিন