মহাকাশে সবচেয়ে বড় কৃষ্ণগহ্বরে সংঘর্ষের চিহ্ন শনাক্ত।
মহাকাশে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হলো দুটি বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষের ঘটনা, যা এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত কৃষ্ণগহ্বর একীভবনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এই দুটি ব্ল্যাকহোল সূর্যের ভরের চেয়ে ১০০ গুণেরও বেশি বড় এবং একে অপরকে সর্পিল গতিতে ঘিরে ঘিরে মিশে গিয়ে সৃষ্টি করেছে এক ভয়াবহ মহাজাগতিক সত্তা।
লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ অবজারভেটরি (LIGO) এই ঘটনা শনাক্ত করেছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ১০০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে সংঘটিত এই মহাশক্তিশালী সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয় প্রবল মহাকর্ষীয় তরঙ্গ, যা LIGO-এর সংবেদনশীল যন্ত্রে ধরা পড়ে।
আইনস্টাইনের তত্ত্বের প্রান্তে ঘূর্ণন
গবেষকরা জানিয়েছেন, দুটি কৃষ্ণগহ্বর এত দ্রুত ঘুরছিল যে তাদের গতি আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার অনুমোদিত সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছিল। সংঘর্ষের ঠিক আগে তারা একে অপরকে প্রবল শক্তিতে আকর্ষণ করতে করতে এক বিন্দুতে মিলিত হয় এবং সেই সঙ্গে তৈরি হয় সৌর ভরের প্রায় ২২৫ গুণের একটি নতুন কৃষ্ণগহ্বর।
মহাবিশ্বের সবচেয়ে সহিংস ঘটনা
যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাভিটি এক্সপ্লোরেশন ইনস্টিটিউটের প্রধান অধ্যাপক মার্ক হ্যানাম বলেন, “ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষ মহাবিশ্বের অন্যতম হিংস্র ও শক্তিশালী ঘটনা। এর ফলে যে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তা প্রোটনের চেয়েও হাজার গুণ ছোট, আর সে কারণেই সেগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।”
মহাকর্ষীয় তরঙ্গের গুরুত্ব
মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সময়-স্থান বক্রতার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা একমাত্র অত্যন্ত শক্তিশালী মহাজাগতিক ঘটনা থেকেই নির্গত হয়। ব্ল্যাকহোলের এই একীভবন সেই তরঙ্গ তৈরির একটি নিখুঁত উদাহরণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তরঙ্গগুলো আমাদের মহাবিশ্বের গঠন, গতি এবং অতীত সম্পর্কে ধারণা দিতে সহায়ক হবে।
নতুন দিগন্তের সূচনা
এই বিস্ময়কর আবিষ্কার মহাকাশবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শুধু মহাবিশ্বের অতল রহস্যই নয়, ব্ল্যাকহোলের আচরণ ও তাদের শক্তি সম্পর্কেও আরও গভীর জ্ঞান অর্জনের পথ উন্মোচিত হলো।
সূত্র: ডেইলি মেইল, এনডিটিভি

মতামত দিন