বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীসহ অভ্যন্তরীণ গ্রহগুলো একদিন সূর্যই গ্রাস করবে: বিজ্ঞানীদের শঙ্কা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, প্রায় ৫০০ কোটি বছর পর ধ্বংসের পথে হাঁটবে আমাদের সূর্য। হাইড্রোজেন জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে একসময় তা রূপ নেবে একটি লোহিত দৈত্যে—যার বিস্তৃত আকার গ্রাস করতে পারে পৃথিবীসহ অভ্যন্তরীণ বেশ কয়েকটি গ্রহকে।

সূর্য বর্তমানে সৌরজগতের ভারসাম্য, তাপ এবং সব কক্ষপথের স্থায়িত্ব রক্ষা করছে। এই নক্ষত্রটির ধ্বংস সূচিত হলে পাল্টে যাবে সবকিছু। বিজ্ঞানীরা বলছেন, হাইড্রোজেন কমে আসার সময় সূর্যের কেন্দ্র আরও গরম হতে শুরু করবে, আর বাইরের স্তর ফুলে উঠবে। তখনই সূর্য পরিণত হবে এক লোহিত দৈত্যে।

এই পর্যায়ে সূর্যের চরম তাপ পৃথিবীর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেবে। মহাসাগর এবং জলাশয়গুলো বাষ্প হয়ে হারিয়ে যাবে। বায়ুমণ্ডল ছিন্নভিন্ন হবে, জীবনের অস্তিত্ব অকার্যকর হয়ে পড়বে।

যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার মানসার বলেন, সূর্যের মতো নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় এ ধরনের বিপর্যয় স্বাভাবিক। সম্প্রতি ‘জেটিএফ এসএলআরএন-২০২০’ নামের একটি মৃতপ্রায় নক্ষত্র তার নিজস্ব গ্রহকে গ্রাস করেছে—এই ঘটনাই ভবিষ্যতের সূর্যের রূপান্তর সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে।

গবেষণা বলছে, সূর্যের বিস্তৃত রূপ শুরুতে বুধ ও শুক্র গ্রহকে গ্রাস করবে। এরপর পৃথিবীর দিকেও ধেয়ে আসবে। এই লোহিত দৈত্য অবস্থাটি প্রায় ১০০ কোটি বছর ধরে চলবে। পরে সূর্য পরিণত হবে ‘সাদা বামন’ নক্ষত্রে এবং সৃষ্টি হবে একটি একক নীহারিকা।

সেই সময় শুধু মঙ্গল এবং তার বাইরের গ্রহ ও গ্রহাণুপুঞ্জগুলো টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকবে। পৃথিবীসহ অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের ইতিহাস তখন শুধু মহাকাশের নীরব সাক্ষ্য হয়ে থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি, স্কাই অ্যাট নাইট ম্যাগাজিন

মতামত দিন