নাসার ক্যামেরায় ধরা পড়ল চিনাবাদাম আকৃতির গ্রহাণু ডোনাল্ডজোহানসন।
ছবিতে দেখা যায়, গ্রহাণুটির গঠন অনেকটা চিনাবাদামের মতো—দীর্ঘ, অসম, খাঁজযুক্ত ও অসমান পৃষ্ঠবিশিষ্ট। গবেষকদের মতে, এটি প্রায় ৮ কিলোমিটার লম্বা এবং ৩.৫ কিলোমিটার প্রশস্ত। ছবি বিশ্লেষণে জানা গেছে, গ্রহাণুটি অত্যন্ত ধীর গতিতে ঘোরে; একবার নিজ অক্ষে আবর্তন সম্পন্ন করতে লাগে প্রায় ২৫১ ঘণ্টা।
ছবিটি ধারণের সময় লুসি ছিল গ্রহাণু থেকে প্রায় ১,৭০০ মাইল দূরে এবং সূর্য মহাকাশযানের পিছনে থাকায় গ্রহাণুর একাংশ কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন। ছবিটি তোলার জন্য ব্যবহার করা হয় ‘L’LORRI’ নামের ক্যামেরা, যা মহাকাশযানের উন্নত চিত্রগ্রহণ যন্ত্রগুলোর একটি।
নামকরণের ক্ষেত্রে নাসা জানিয়েছে, এই গ্রহাণুর নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত নৃবিজ্ঞানী ডোনাল্ড জোহানসনের নামে, যিনি আদিম মানব প্রজাতি ‘লুসি’র জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছিলেন।
লুসি মিশনের উদ্দেশ্য
লুসি মিশন মূলত বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথে থাকা ‘ট্রোজান গ্রহাণু’ বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়। তবে এই ডোনাল্ডজোহানসন গ্রহাণুটি ছিল একটি পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণ। বর্তমানে লুসি ঘণ্টায় ৩০,০০০ মাইলের বেশি গতিতে মহাকাশে ভ্রমণ করছে।
২০২৭ সালের আগস্টে এটি ‘ইউরিবেটস’ নামক ট্রোজান গ্রহাণুর কাছে পৌঁছাবে। এরপর ১৫ মাসের মধ্যে আরও অন্তত ছয়টি গ্রহাণুর কাছাকাছি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে বলে জানিয়েছে নাসা।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ধরনের গ্রহাণু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সৌরজগতের উদ্ভব ও প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
সূত্র: এনডিটিভি
মতামত দিন