আষাঢ়ের আকাশে দেখা যাবে মহাজাগতিক,চাঁদ, গ্রহ ও নক্ষত্রের দুর্লভ মিলন।
চাঁদের গতিপথে বৈচিত্র্য
চাঁদ পৌঁছেছে তার প্রথম চতুর্থাংশে, ফলে দেখা যাবে অর্ধেক আলোকিত চাঁদ। এসময় চাঁদের গহ্বর ও পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য খালি চোখেই স্পষ্টভাবে ধরা দেবে। ৪ জুলাই চাঁদ তার কক্ষপথে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাবে, যেটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় “অ্যাপোজি” নামে পরিচিত। একই দিনে চাঁদ ভার্গো নক্ষত্রমণ্ডলের উজ্জ্বল তারা স্পাইকারকে আড়াল করবে—এ ঘটনাকে বলা হয় ‘লুনার অকুলটেশন’। পরবর্তী সময়ে ৮ জুলাই চাঁদ স্কর্পিয়াস তারামণ্ডলের উজ্জ্বল তারকা অ্যান্টারেসকে আড়াল করবে, আর ১১ জুলাই আকাশে দেখা যাবে পূর্ণিমা। এর আগে ১০ জুলাই চাঁদ সূর্য থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে থাকবে।
গ্রহের সংযোগ ও অবস্থান
৩ জুলাই পৃথিবী তার কক্ষপথে সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থান করবে, এই সময় সূর্যকে তুলনামূলক ছোট দেখা যাবে—এ ঘটনাকে বলা হয় ‘অপসূর’। একই দিনে বুধ গ্রহ ও ক্যানসার নক্ষত্রমণ্ডলের বিখ্যাত তারার ঝাঁক এম৪৪ (বিহাইভ ক্লাস্টার) কাছাকাছি আসবে। ৪ জুলাই দেখা যাবে শুক্র ও ইউরেনাস গ্রহের সংযোগ বা ‘কনজুগেশন’, যদিও ইউরেনাসকে খালি চোখে দেখা সম্ভব হবে না; দেখতে হবে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপের সাহায্যে।
৪ জুলাই সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে বুধ থাকবে সবচেয়ে স্পষ্ট অবস্থানে। এরপর ৫ জুলাই নেপচুন গ্রহের ‘রেট্রোগ্রেড’ বা পশ্চাদ্গামী গতির ভ্রান্তচিত্র দেখা যাবে, এটি মূলত পৃথিবীর দ্রুত গতির কারণে ঘটে।
আরও চমকদার মুহূর্ত
৯ জুলাই দেখা যাবে উজ্জ্বল গ্লোবুলার ক্লাস্টার ‘দ্য গ্রেট পিকক’। ১২ জুলাই সূর্যোদয়ের আগে ভোরের আকাশে শুক্র গ্রহ তার সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থান করবে। ১৩ জুলাই শনি গ্রহকেও পশ্চাদ্গামী পথে চলতে দেখা যাবে। আর ১৪ জুলাই বুধ গ্রহ সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী অবস্থানে থাকবে।
এই পুরো সময়জুড়ে যদি আকাশ মেঘমুক্ত থাকে, তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানে উৎসাহী ব্যক্তিদের জন্য এটি হতে পারে এক অসাধারণ মহাজাগতিক অভিজ্ঞতার সময়কাল।
সূত্র:
বিবিসি স্কাই অ্যাট নাইট ম্যাগাজিন, অ্যাস্ট্রোনমি, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, ইন দ্য স্কাই, স্কাই ম্যাপস

মতামত দিন