যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় টেসলার নতুন চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি।
সম্প্রতি টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরের সাউথ কংগ্রেস এলাকায় এই চালকবিহীন ট্যাক্সি চলতে দেখা গেছে। টেসলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই রোবোট্যাক্সিগুলো এখন নির্ধারিত এলাকায় ৪ ডলারে যাত্রী পরিবহন করছে। চালকের আসনে থাকছেন না কোনো চালক, তবে ‘সেফটি মনিটর’ নামে একজন প্রযুক্তি তদারক থাকেন সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে।
টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক এই প্রকল্পকে গত এক দশকের গবেষণা ও পরিশ্রমের ফল বলে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, টেসলা রোবোট্যাক্সি আগামী দিনে পরিবহন খাতে ‘বিপ্লব’ ঘটাবে।
তবে রাস্তায় গাড়িগুলোর চলাচল নিয়ে দেখা দিয়েছে ভিন্নরকম উদ্বেগ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গাড়িগুলো ট্রাফিক আইন মেনে চলছে, ঠিকভাবে থামছে, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— দুর্ঘটনার সময় এগুলো কী করবে? যাত্রীদের সুরক্ষা কে নিশ্চিত করবে?
নিরাপত্তার পাশাপাশি উঠছে শ্রমবাজারে প্রযুক্তির প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন। ট্যাক্সি চালকদের কাজ চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। তাদের ভাষায়, “এই গাড়িগুলো যদি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তাহলে হাজার হাজার চালকের কাজ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।”
তবে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন,গাড়িগুলোতে লাগানো ক্যামেরা ও সেন্সরের মতো আধুনিক প্রযুক্তি কিছুটা হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। আর সেটিই ব্যবহারকারীদের আস্থা তৈরি করতে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, আপাতত মাত্র ১০টি রোবোট্যাক্সি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। সফল হলে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে টেসলা।
নতুন যুগের এই গাড়িগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখন চলছে একপ্রকার সামাজিক ও প্রযুক্তিগত আলোড়ন— কোথাও আগ্রহ, কোথাও সংশয়। তবে ভবিষ্যতের গণপরিবহন যে দ্রুত বদলে যাচ্ছে, সেটি বলাই বাহুল্য।
মতামত দিন